সর্বশেষ
মার্চ ১৫, ২০২৬

সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ: পৃথক অধিবেশন দাবিতে বিরোধী জোটের হুঁশিয়ারি।

Spread the love

মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। রাষ্ট্রপতি Mohammed Shahabuddin এর ভাষণকে কেন্দ্র করে অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ কক্ষে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ওয়াকআউট করেন Bangladesh Jamaat-e-Islami ও তাদের মিত্রদলের সংসদ সদস্যরা।এ পরিস্থিতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং এ বিষয়ে পৃথক অধিবেশন আহ্বানের দাবি তুলেছে বিরোধী জোট। তাদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবে তারা।

জামায়াত, National Citizen Party এবং তাদের নির্বাচনী জোট ইতোমধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথকভাবে শপথগ্রহণ করেছে। তবে ক্ষমতাসীন Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) জানিয়েছে, সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনা সংসদেই হতে পারে, কিন্তু এ মুহূর্তে সংস্কার পরিষদের জন্য আলাদা অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজন তারা দেখছে না। এতে সংসদ অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক Badiul Alam Majumdar বলেন, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি না করে সমস্যার সমাধান করা জরুরি। তার মতে, নানা কারণে বিভক্ত একটি জাতি দূর এগোতে পারে না। ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার কথা। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ ১৫ মার্চ।

তবে এখনও পরিষদ গঠন করা হয়নি এবং সময়সীমা পেরিয়ে গেলে কী হবে সে বিষয়ে আদেশে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।এরই মধ্যে আজ রবিবার সকালে সংসদের মুলতবি অধিবেশন বসছে। এর আগে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবিতে সরব হয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। গতকাল শনিবার জোটের বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক Hamidur Rahman Azad বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে তারা। শিগগিরই শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠক গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, বিষয়টি কার্যসূচিতে ছিল না এবং সরকার সংসদের মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সমাধান চায়।আইনমন্ত্রী Asaduzzaman-ও জানান, সংবিধান সংস্কার নিয়ে দলের অবস্থান সংসদেই তুলে ধরা হবে। তার ভাষায়, “সংসদই সব ধরনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।” অন্যদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ Nahid Islam বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সরকারের অবস্থান সংসদে জানার পর তাদের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, গণভোটের রায় যেহেতু সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই সংসদ অধিবেশনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনও ডাকার কথা ছিল।

গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি Mohammed Shahabuddin ভাষণ দেন। তবে ভাষণ চলাকালেই জামায়াত জোটের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হবে এবং সেই আলোচনায় ওয়াকআউট করা সংসদ সদস্যরাও অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।সভা শেষে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed জানান, ১৫ মার্চ সংসদ বসার পর ১৬ মার্চ থেকে মুলতবি থাকবে এবং ২৯ মার্চ পুনরায় শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

এ সময়ে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ পরীক্ষা করতে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। এছাড়া বিধি ৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ২৭টি এবং বিধি ১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ জমা পড়েছে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে আজ রবিবার বেলা ১১টায় আবারও মুলতবি সভা বসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *