মোঃ মাইউদুর রহমান লিও, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে শিক্ষার্থীকে মারধর ও জেগে ওঠা চর দখলের অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএ’র মাওয়া জোনের বন্দর কর্মকর্তার প্রত্যাহার এবং পূর্বপুরুষের বসতভিটা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার রানীগাঁও এলাকার পদ্মার জেগে ওঠা চরে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে রানীগাঁও গ্রামের কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী–পেশার সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন এবং লৌহজং উপজেলা বিএনপির সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন।বক্তারা অভিযোগ করেন, বিআইডব্লিউটিএ’র মাওয়া জোনের বন্দর কর্মকর্তা নেওয়াজ মো. খান জোরপূর্বক ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে জেগে ওঠা চর যা এক সময় গ্রামবাসীর বসতভিটা ছিল তা কেটে বিক্রি করার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে তিনি দুই স্কুল শিক্ষার্থীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।সমাবেশে আসাদুজ্জামান রিপন অভিযুক্ত বন্দর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে যদি তাকে প্রত্যাহার করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে বন্দর কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। পাশাপাশি শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় অবৈধ ইজারা, চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তিনি।উল্লেখ্য, পদ্মায় জেগে ওঠা এই চরটি প্রায় চার দশক আগে নদীভাঙনে বিলীন হওয়া রানীগাঁও গ্রামের শত শত মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি ছিল। দুই বছর আগে পুনরায় চর জেগে ওঠায় এলাকাবাসী সেই জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন।
আর সেই জমি দখলের চেষ্টা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগেই এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে বক্তারা শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি, বন্দর কর্মকর্তার বরখাস্ত এবং ড্রেজিং–বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানান।

