সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

লালমনিরহাট-০২ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই, বদলে যেতে পারে অতীতের সব রাজনৈতিক সমীকরণ

Spread the love

জহুরুল হক জনি, স্টাফ রিপোর্টার:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-০২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ক্রমেই তুঙ্গে উঠছে।তিস্তা পাড়ের মানুষের কাছে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকায় শূন্য হয়ে পড়া ভোট ব্যাংক দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিভিন্ন দল।

এ পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ও নতুন রাজনৈতিক দল জনতার দলসহ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক নিজেদের দিকে টানতে কৌশলগত প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একাধিক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় নেতাকে দলে টানার মাধ্যমে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তার বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ফলে লালমনিরহাট-০২ আসনে এবারের নির্বাচনী ফলাফল অতীতের সব হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আসনের পরিচিতি:লালমনিরহাট-০২ সংসদীয় আসনটি কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত।এ আসনে ১৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৭৯ জন।দীর্ঘদিন এ আসনটি জাতীয় পার্টির প্রার্থী মজিবুর রহমান মাস্টারের দখলে ছিল।২০১৪ সাল থেকে মহাজোট প্রার্থী নুরুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী রোকনুদ্দিন বাবুল ধানের শীষ প্রতীকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন। স্বাধীনতার পর একবার বিএনপি এই আসনে বিজয়ী হলেও এরপর আর জয় পায়নি।ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাএবারের নির্বাচনে লালমনিরহাট-০২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রোকনুজ্জামান বাবুলকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শরিক জামায়াতে ইসলামীর শক্ত প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু এবং নতুন রাজনৈতিক দল জনতার দলের চেয়ারম্যান, সাবেক সাতবারের এমপি মজিবুর রহমান মাস্টারের পুত্র ব্রিগেডিয়ার (অব.) শামীম কামালকে।তবে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় দলের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে বিরোধিতার ঘোষণা দিয়েছে, যা বাবুলের বিজয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।জামায়াত প্রার্থীর জনপ্রিয়তা:জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু এলাকায় সুপরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ।বন্যা-খরা, বিয়ে, জানাজা ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি, এতিম ও অসহায় শিশুদের পড়ালেখার খরচ বহন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।দিনরাত গণসংযোগে ব্যস্ত এই প্রার্থীর বিজয়ের ব্যাপারে তার সমর্থকরা আশাবাদী।

জনতার দলের হিসাব:সাবেক এমপি মজিবুর রহমান মাস্টারের দ্বিতীয় পুত্র, নবগঠিত রাজনৈতিক দল জনতার দলের প্রধান ব্রিগেডিয়ার শামীম কামাল রাজনীতিতে নতুন হলেও পিতার দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে পুঁজি করে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার ভোট, জাতীয় পার্টির ভোট এবং সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক নিজের দিকে টানতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।সব সমীকরণ অনুকূলে এলে তিনি বিজয়ের পথে এগিয়ে থাকবেন বলে তার সমর্থকদের ধারণা।অন্যান্য প্রার্থী এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মাহফুজুর রহমানও নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।সব মিলিয়ে লালমনিরহাট-০২ আসনে এবারের নির্বাচন যে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও চমকপ্রদ হতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *