মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধিরাঙামাটির জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে এক সিনিয়র নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে হাসপাতালের নার্সেস চেঞ্জিং রুম থেকে সাথী বড়ুয়া (৩৭) নামের ওই নার্সের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।নিহত সাথী বড়ুয়া ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে সিনিয়র নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।ঘটনার সূত্রপাত ও উদ্ধার প্রক্রিয়াপুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দেবাশীষ নগর এলাকার বাসিন্দা সাথী বড়ুয়া সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে বৃহস্পতিবার রাতে নির্ধারিত নাইট ডিউটি করতে না পেরে তিনি ছয় দিনের সিএল ছুটি নেন। তবে তাকে মাসের শেষ তিনদিন নাইট ডিউটিতে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।শুক্রবার ভোরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সহকর্মীদের ভিড়ে তিনি কিছুটা বিরক্ত হন এবং বিশ্রামের জন্য নার্সেস চেঞ্জিং রুমে যান।দুপুর আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে সিনিয়র নার্স সাধনা চাকমা রুমে প্রবেশ করতে গেলে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ পান। বারবার ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজা ঠেলে খোলার পর তিনি দেখেন, রুমের বাতি বন্ধ এবং জানালার পাশে উড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন সাথী বড়ুয়া।চিৎকার শুনে অন্য স্টাফরা ছুটে এলে বিষয়টি জানানো হয় পুলিশকে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পারিবারিক বক্তব্যখবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি ও টহল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে ক্রাইম অ্যান্ড অপস জনাব মোঃ জসীম উদ্দিন চৌধুরী (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর নির্দেশ দেন।নিহতের স্বামী সুমন বড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে খাওয়া-দাওয়া অনিয়ম, শরীরে ঝালাপোড়া ও মানসিক উদ্বেগে ভুগছিলেন। তিনি বলেন, “আমি বারবার হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেছিলাম, কিন্তু সে রাজি হয়নি। মনে হয় মানসিক চাপই এই পরিণতির কারণ।”আত্মহত্যা নাকি অন্য রহস্য?পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।রাঙামাটির সাধারণ মানুষ ও হাসপাতাল স্টাফদের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

