সর্বশেষ
মার্চ ২১, ২০২৬

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের শুরুতেই গাজায় ইসরায়েলি তান্ডব, নিহত ১০

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট:
​যুক্তরাষ্ট্র যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকরের ঘোষণা দিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় রক্তাক্ত হলো গাজা উপত্যকা। বৃহস্পতিবার গাজার বিভিন্ন স্থানে চালানো এই হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। এই ঘটনা যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা এবং ইসরায়েলের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


​আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে আল-হাওলি এবং আল-জারু পরিবারের দুটি বাড়িতে বোমা বর্ষণ করে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণহানি ঘটে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, নিহতদের মধ্যে একজন হামাসের কাসাম ব্রিগেডের কমান্ডার মুহাম্মদ আল-হাওলি রয়েছেন। তবে হামাস এই হত্যাকাণ্ডকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও তাদের কমান্ডারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।


​একদিকে যখন হামলার ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ঘোষণা করেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। এই ধাপের মূল লক্ষ্য হলো গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাট শাসন প্রতিষ্ঠা এবং পুনর্গঠন কাজ শুরু করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি ১৫ সদস্যের টেকনোক্র্যাট কমিটি বা ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা উপত্যকার দৈনন্দিন শাসনের দায়িত্ব নেবে। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলী শাথ।


​তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষেরা যখন শান্তির আশায় দিন গুনছে, তখন ইসরায়েলি বাহিনী রাফাহ এবং গাজা সিটির বিভিন্ন পয়েন্টে হামলা অব্যাহত রেখেছে। আল-আলম চত্বর এবং নুসিরাত শরণার্থী শিবিরেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে।


​জাতিসংঘের প্রজেক্ট সার্ভিসেস অফিসের (UNOPS) প্রধান জর্জ মোরেইরা দা সিলভা গাজার পরিস্থিতিকে অমানবিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৫২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। গাজায় বর্তমানে প্রায় ৬০ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আলী শাথ জানিয়েছেন, এই ধ্বংসস্তূপের নিচে অবিস্ফোরিত বোমা এবং মানুষের দেহাবশেষ চাপা পড়ে আছে। পরিকল্পনা করা হচ্ছে, বুলডোজার দিয়ে এই ধ্বংসস্তূপ সাগরে ফেলে নতুন ভূমি বা দ্বীপ তৈরি করা হবে।
​হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসেম নাইম নতুন টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠনকে সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি সুসংহত করা এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় এটি অত্যন্ত জরুরি। তবে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মনে প্রশ্ন একটাই—মাথার ওপর বোমার আতঙ্ক নিয়ে কীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে?
​উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭১,৪৪১ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শীতের তীব্রতা এবং বাসস্থানের অভাবে গাজার ২০ লাখ মানুষ এখন চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
​উৎস: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *