সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য জোরদারে বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান

Spread the love

মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ

অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের মূল্য ও শর্তাবলী নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।বিমান সূত্র জানায়, সভায় বোয়িংয়ের ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের প্রস্তাব এবং ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পাঠানো সংশোধিত খসড়া চুক্তি পর্যালোচনা করা হয়। এতে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮—মোট ১৪টি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দেয় বোয়িং। বোর্ড এই প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেয়।

এই উদ্যোগ এমন সময় নেওয়া হলো, যখন বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের কৌশল বাস্তবায়নে সক্রিয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বোয়িং থেকে বড় অর্ডার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং রপ্তানি শুল্ক–সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিতে সহায়ক হতে পারে। বিমান ক্রয়ের মতো বড় চুক্তি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে বলেও মত কর্মকর্তাদের।

বোয়িং কোম্পানির বাণিজ্যিক বিমান বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘিকে পাঠানো এক চিঠিতে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বোর্ডের অনুমোদনটি চূড়ান্ত চুক্তির আগের আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা মাত্র। চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কোনো আর্থিক বা আইনি দায়ে আবদ্ধ থাকবে না এ কথাও চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়।

বিমানের বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সংস্থাটির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের বিমান পরিবহন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন একটি কমিটি গঠন করা হবে, যা বোয়িং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দরকষাকষিসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে।

এর আগে গত ২৭ জুলাই সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, পাল্টা শুল্ক নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বোয়িং থেকে মোট ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর কিছু বিমান আগামী এক দুই বছরের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, বোয়িং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং তারা তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ দেবে।

যারা আগে অর্ডার দিয়েছে, তারা অগ্রাধিকার পাবে এটাই স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া।বোয়িং কেনার ঘোষণার পর ইউরোপীয় কূটনীতিকদের তৎপরতাও বেড়েছে। এয়ারবাস বিক্রির বিষয়ে তারা সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেন এবং এমনকি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা করেন।

এর আগেও ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে বোয়িংয়ের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে।সব মিলিয়ে, বোয়িং না এয়ারবাস কোন প্রতিষ্ঠানের উড়োজাহাজ কেনা হবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও চূড়ান্ত আলোচনার ফলাফলের ওপর। তবে আপাতত বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *