সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

মুন্সীগঞ্জে অভিনব উদ্যোগ: বিবাহ মণ্ডপেই হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন সেবা

Spread the love

মোঃ মাইউদুর রহমান লিও, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

মুন্সীগঞ্জ সদরে হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন সেবা এখন আর শুধু অফিসকেন্দ্রিক নয়—সরাসরি বিবাহ মণ্ডপে গিয়েও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার জিতু রায় সম্প্রতি এমনই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।গত সপ্তাহে এক বাংলাদেশি কনে ও ভারতীয় বরের বিবাহ অনুষ্ঠানে তিনি মণ্ডপে উপস্থিত হয়ে সকল আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।

এ প্রসঙ্গে জিতু রায় বলেন, “সাধারণত সবাই অফিসে এসে রেজিস্ট্রেশন করেন। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে মানুষের সুবিধার্থে আমি নিজেই মণ্ডপে গিয়ে সেবা প্রদান করি। পুরোহিত, সাক্ষী ও উপস্থিত গ্রামবাসীর সামনে সম্পূর্ণ আইনগতভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়েছে।”মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ২১৩ নং পৌর মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত তার অফিসে প্রতিদিনই অনেক দম্পতি বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করছেন। পাসপোর্ট, ভিসা, উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন আইনি প্রয়োজনে এই সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:স্বামী ও স্ত্রীর ভোটার আইডি বা জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপিপুরোহিতের প্রত্যয়নপত্র (বিবাহের তারিখ ও লগ্নসহ)উভয় পক্ষের ৪টি পাসপোর্ট সাইজ ও ২টি স্টাম্প সাইজের ছবিবর ও কনে পক্ষের দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তির স্বাক্ষররেজিস্ট্রেশনের সময় যেসব তথ্য প্রয়োজন:আশীর্বাদের তারিখ ও বিয়ের তারিখবিয়ের স্থান (বাংলা ও ইংরেজিতে)শিল/নাপিতের নাম ও ঠিকানাব্রাহ্মণের নামকন্যা সম্প্রদানকারীর নাম ও সম্পর্কউভয় পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তির নাম ও ঠিকানাস্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় এই সেবাকে স্বাগত জানিয়েছে।

এক যুবক বলেন, “আগে দূরে যেতে হতো। এখন বাড়ির কাছেই সব সুবিধা পাওয়া যায়—এটা সত্যিই খুব ভালো উদ্যোগ।”জিতু রায় বলেন, “হিন্দু বিবাহ শুধু ধর্মীয় আচার নয়, আইনগত স্বীকৃতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মানুষের দোরগোড়ায় এই সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছি। মণ্ডপে রেজিস্ট্রেশন সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

”সেবার সময়: প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টাযোগাযোগ: ০১৯১২-৩৮৪৮৪৭ (ফোন/হোয়াটসঅ্যাপ)অফিস অবস্থান: ২১৩, পৌর মার্কেট (২য় তলা), দর্পণা কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে, মুন্সীগঞ্জ সদর।স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন সেবাকে আরও সহজলভ্য করেছে এবং আইনগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *