রাহি ইসলাম সহকারী মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি :
আপনার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় নিয়ে আপনি দেশ পরিচালনা করছেন, সেই যাত্রায় দেশের প্রতিটি প্রান্তের সমান অংশগ্রহণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এবং ঐতিহ্যে অনন্য ও প্রবাসী অধ্যূষিত জেলা হিসাবে মৌলভীবাজার আজ যেন এক দীর্ঘশ্বাসের নাম।
যে জনপদ একসময় দেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখত, আজ তা চরম উন্নয়ন বৈষম্য ও নেতৃত্বের শূন্যতায় পর্যুদস্ত। বৈচিত্রময় প্রকৃতিতে ভরপুর ও অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র মৌলভীবাজার কেবল একটি ভৌগোলিক সীমারেখা নয় এটি পাহাড়, টিলা, দিগন্তজোড়া হাওর আর অরণ্য-নীলিমার এক জীবন্ত ক্যানভাস সিমান্তবর্তী এক জেলা। দেশের চা শিল্পের ‘রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই জেলা জাতীয় অর্থনীতিতে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার জোগান দিচ্ছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে শুরু করে শ্রীমঙ্গল , কমলগন্জ ও বড়লেখার পর্যটন সবই এ অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে।
তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এত অবদান রাখার পরও মৌলভীবাজার জেলা কেন আজ উন্নয়নের তলানিতে? মৌলভীবাজারের আধুনিক রূপকার ছিলেন প্রয়াত দেশবরেণ্য অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে যে উন্নয়নের জোয়ার তৈরি হয়েছিল, ২০০৮ সালের পর থেকে তা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিগত প্রায় দুই দশকে এই জেলায় এমন কোনো দৃশ্যমান মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হয়নি যা মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটাতে পারে।
বিশেষ করে, ৫৪ বছর ধরে বন্ধ থাকা শমশেরনগর বিমানবন্দরটি চালুর দাবি আজও অরণ্যে রোদন হয়ে আছে। একটি বিমানবন্দর কেবল যাতায়াত নয়, বরং আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারত, অথচ তা উপেক্ষিতই থেকে গেল।দীর্ঘ ১৭বছর প্রতীক্ষার পর দেশে যখন আপনার নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার গঠিত হলো, তখন মৌলভীবাজারবাসীর বুকভরা আশা ছিল এ জেলা থেকে অন্তত একজন যোগ্য প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে।
প্রতিবেশী জেলা সিলেট থেকে একাধিক মন্ত্রী নিয়োগ পেলেও মৌলভীবাজার জেলা বন্চিত থেকে গেল। প্রয়াত সৈয়দ মহসিন আলী কিংবা এবাদুর রহমান চৌধুরী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে তারা কাঙ্ক্ষিত ছাপ রাখতে পারেননি।প্রাসঙ্গিকভাবে এই গভীর রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সংকটে মৌলভীবাজার আজ একজন দক্ষ অভিভাবক খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে এমপি এম নাসের রহমান একজন ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় নাম। কেন তিনি আজ সময়ের দাবি?
বর্তমান কলুষিত রাজনীতির ভিড়ে তিনি একজন শিক্ষিত, মার্জিত এবং সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তিনি আপসের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন, বরং নিজের আদর্শে অবিচল থাকা এক জননেতা। তাঁর ব্যক্তিগত সততা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নাতীত। তৃণমূলের কিছু রাজনীতির সাথে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির সামান্য অমিল হয়তো কারো কাছে সমালোচনার বিষয় হতে পারে, কিন্তু তাঁর মেধা ও দূরদর্শিতা এই অঞ্চলের জন্য অপরিহার্য।
অনেকে তাঁর ‘সাদা মন’ এবং স্পষ্টবাদিতার সমালোচনা করেন, কিন্তু বর্তমান সময়ে মৌলভীবাজারের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষায় তাঁর মতো একজন সাহসী ও দক্ষ নেতার কোনো বিকল্প নেই।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মৌলভীবাজারের উন্নয়ন মানে কেবল একটি জেলার উন্নয়ন নয়, এটি একটি বিপুল সম্ভাবনাময় অঞ্চলের অর্থনৈতিক জাগরণ। এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি এমপি এম নাসের রহমানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে আপনি মৌলভীবাজারের মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার করবেন।
আমরা বিশ্বাস করি, আপনার হাত ধরেই এই জনপদ দীর্ঘদিনের অবহেলা থেকে মুক্তি পাবে। একজন যোগ্য অভিভাবকের অপেক্ষায় আজ তাকিয়ে আছে মৌলভীবাজারের সাধারণ মানুষ। আশা করি, আপনি অবহেলিত এই জেলাবাসীকে নিরাশ করবেন না।

