ডেস্ক রিপোর্ট, newsbd24live:
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলের ভেতর অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করে বিতর্কিত ও ভুঁইফোড় নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভোটের মাঠে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে তুলতে পারে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের পরিবর্তে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাকে।
যিনি নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে নিজের বাবার প্রতিষ্ঠিত দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। একইভাবে নির্বাচনী সমঝোতার নামে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ৪টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অথচ মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অভিযোগ, এহসানুল হুদার জাতীয় দল কিংবা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নিজস্ব জনসমর্থন বা ভোটব্যাংক নগণ্য, যা স্থানীয় রাজনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলার মতো নয়। শুধুমাত্র বড় দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য এই তড়িঘড়ি যোগদান ও মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে।
তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়েও। অভিযোগ রয়েছে, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যারা যুক্ত ছিলেন, তারা তৃণমূলের সঠিক তথ্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছাননি। ফলে দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের বদলে বিতর্কিতরা সামনে চলে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি আসনে এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করা এবং এস আলমের মতো বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের সহযোগী হিসেবে পরিচিতি থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিস্ট রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত এসব ব্যক্তিদের ধানের শীষের প্রার্থী করায় সাধারণ ভোটার ও দলের একনিষ্ঠ সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মনোনয়ন বাণিজ্যের ফলে প্রায় প্রতিটি আসনেই বিএনপির শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জনগণ যদি সুষ্ঠুভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়, তবে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোটের হিসেবে বড় ধরনের গরমিল দেখা দিতে পারে। যা শেষ পর্যন্ত বিএনপির নিশ্চিত বিজয়কেও হাতছাড়া করতে পারে।

