সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

​ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে সব জল্পনার অবসান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল পাকিস্তান!

Spread the love

ডেক্স রিপোর্ট, newsbd24live:


​ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চলা দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।


​পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এর আগে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে টুর্নামেন্ট বা নির্দিষ্ট এই ম্যাচ বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ (বিসিবি) বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সাথে আলোচনার পর পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।


​সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, ক্রিকেটের চেতনা রক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে এই খেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তারা জাতীয় দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয়, বহুপাক্ষিক আলোচনা এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


​বিসিবির ভূমিকা ও পাকিস্তানের সংহতি
এর আগে আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নিতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। পাকিস্তান একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। তবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল লাহোর সফর করে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং আইসিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। বিসিবি সভাপতি পাকিস্তানকে অনুরোধ করেন যাতে তারা বৃহত্তর স্বার্থে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলে।


​আমিনুল ইসলাম বুলবুল এক বিবৃতিতে বলেন, কঠিন সময়ে পাকিস্তানের এই অকুণ্ঠ সমর্থন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের স্বার্থে পাকিস্তানের এই ম্যাচটি খেলা জরুরি।


​আইসিসির অবস্থান ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ
এদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়েছে, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক হলেও এজন্য তাদের ওপর কোনো ধরণের আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তি আরোপ করা হবে না। একইসাথে আইসিসি আশ্বস্ত করেছে যে, ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অন্তত একটি বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজন করার সুযোগ পাবে।


​আইসিসি প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা বিসিবির সাথে দীর্ঘমেয়াদী কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতে বড় ইভেন্ট আয়োজনে তাদের পূর্ণ সহায়তা দেওয়া হবে।


​কলম্বোর সেই মেগা ম্যাচকে ঘিরে এখন ক্রিকেট বিশ্বের উত্তাপ তুঙ্গে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের এই লড়াই দেখতে এখন পুরো বিশ্বের চোখ থাকবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *