মোঃ মেহেদী হাসান (বড়াইগ্রাম) নাটোর প্রতিনিধি,নাটোরের বড়াইগ্রামে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব ২০২৫। সোমবার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়। শীতের আগমনী হাওয়া আর গ্রামীণ ঐতিহ্যের আবহে উৎসবস্থলে সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়।উৎসবের উদ্বোধন করেন বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন,পিঠা উৎসব শুধু খাবারের আয়োজন নয়; এটি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য, নারীর সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতিচর্চার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। নারীর ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতেই এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ডালিয়া পারভীন, বড়াইগ্রাম উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ডালিম কাজী, বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, নারী উদ্যোক্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।উৎসবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নারী উদ্যোক্তা, গৃহিণী ও তরুণীরা ভাপা, পাটিসাপটা, চিতই, রসপিঠা, পাকনসহ নানা স্বাদের শতাধিক পিঠা প্রদর্শন করেন। প্রায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পিঠার প্রদর্শনী ছিল উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ।
পাশাপাশি ছিল হস্তশিল্প প্রদর্শনী, পিঠা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং গ্রামীণ খেলাধুলা।উপজেলা অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর সাজে সজ্জিত। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষজন ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন স্টলে, উপভোগ করেন শীতের মৌসুমি পিঠার স্বাদ ও আনন্দ।উৎসবে মোট আটটি স্টল অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্প,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর নিবন্ধিত মহিলা সমিতি,নারীর উদ্যোক্তা উন্নয়ন শাখা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরবনপাড়া সরকারি মহিলা কলেজ,বনপাড়া কলেজ,জাতীয় মহিলা সংস্থা,এছাড়াও আরও কয়েকটি নারী উদ্যোক্তা ও সংগঠনের অংশগ্রহণ ছিল।আয়োজকরা জানান, স্থানীয় নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য এ ধরনের উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের আশা, পিঠা উৎসব ২০২৫ বড়াইগ্রামের মানুষদের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

