সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

প্রকাশ্যেই ভাইস প্রিমিয়ারকে ‘ছাগল’ বলে বরখাস্ত করলেন কিম জং উন

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট:
​উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন দেশটির একজন ভাইস প্রিমিয়ারকে বরখাস্ত করেছেন। কারখানার আধুনিকায়ন প্রকল্পে ব্যর্থতা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে এই চরম শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সম্মেলনের আগে কর্মকর্তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা কঠোর করতে এবং কাজের গতি বাড়াতেই কিম এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
​কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) তথ্যমতে, মেশিন-বিল্ডিং শিল্পের দায়িত্বে থাকা ভাইস প্রিমিয়ার ইয়াং সাং হো-কে বরখাস্ত করেছেন কিম। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ‘রিয়ংসং মেশিন কমপ্লেক্স’ আধুনিকায়নের কাজে অহেতুক মানুষের তৈরি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।


​সোমবার কমপ্লেক্সের প্রথম ধাপের আধুনিকায়ন পরিকল্পনা সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কিম জং উন বলেন, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অযোগ্য কর্মকর্তাদের কারণে এই প্রকল্পে অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ডিসেম্বরেই তিনি ইয়াংকে সতর্ক করেছিলেন এবং তার ওপর নজর রেখেছিলেন। কিন্তু তার মধ্যে কোনো দায়িত্ববোধ দেখা যায়নি।


​বক্তব্যে কিম জং উন রূপক অর্থে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, সহজ কথায় বলতে গেলে, তিনি ছিলেন গরুর গাড়িতে জুড়ে দেওয়া ছাগলের মতো। আমাদের বুঝতে হবে, তাকে নিয়োগ দেওয়াটাই ছিল একটি দুর্ঘটনা। আমরা কি আশা করতে পারি যে একটি ছাগল গরুর গাড়ি টেনে নিয়ে যাবে?
​বিশ্লেষকদের মতে, জনসমক্ষে কর্মকর্তাদের অপমান করা এবং বরখাস্ত করা কিম জং উনের পুরোনো কৌশল। ওয়ান কোরিয়া সেন্টারের প্রধান কোয়াক গিল সুপ মনে করেন, আসন্ন ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসের আগে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে তাদের দিয়ে আরও ভালো ফলাফল বের করে আনাই কিমের লক্ষ্য। এই কংগ্রেস বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম হতে যাচ্ছে, যেখানে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।


​অন্যদিকে, সিউল-ভিত্তিক কোরিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজির বিশেষজ্ঞ মুন সং মুক ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, কারখানার এই সমস্যার মূল কারণ কোনো একক কর্মকর্তা নন, বরং উত্তর কোরিয়ার কাঠামোগত সমস্যা। দেশটির সীমিত সম্পদের অধিকাংশই অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে। কিম জং উন পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন, কিন্তু অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন। এখন নিজের দোষ ঢাকতে অধস্তনদের বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন।


​উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ মহামারির সময় উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছিল। ২০২৪ সালে দেশটির অর্থনীতি ৩.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, অত্যধিক অস্ত্রপ্রীতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, চলতি জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতেই পার্টির কংগ্রেস শুরু হতে পারে। সেখানে কিম রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্থবির কূটনীতি পুনরায় চালুর বিষয়েও ইঙ্গিত দিতে পারেন।
​সূত্র: এপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *