সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

পদ্মা সেতু উত্তর প্রান্তে ডিবির অভিযানে ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশে ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

Spread the love

মোঃ মাইউদুর রহমান লিও, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পদ্মা সেতু (উত্তর) ও শ্রীনগর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশে ডাকাতিতে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাসসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. মহিদুল ইসলাম ও এসআই (নিরস্ত্র) আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে জেলা ডিবির একটি চৌকস দল পদ্মা সেতু (উত্তর) থানাধীন মাওয়া চৌরাস্তা এলাকায় ডিউটি পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি সিলভার রঙের হাইয়েচ মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন ব্যক্তি শ্রীনগর এলাকা থেকে মাওয়া টোল প্লাজার দিকে আসছে, যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ডাকাতির পরিকল্পনা করছে।

সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি সদস্যরা পদ্মা সেতুর উত্তর প্রান্তের টোল প্লাজায় চেকপোস্ট বসান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে টোল প্লাজার ৪ নম্বর লেন দিয়ে একটি সিলভার রঙের হাইয়েচ মাইক্রোবাস দ্রুতগতিতে পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটি থামানো হয়। গাড়ি থামানোর পর ভেতরে থাকা এক ব্যক্তি হাতে থাকা ওয়াকিটকি দেখিয়ে নিজেকে ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ডিবি সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করেন।

এ সময় গাড়িতে থাকা আসামীরা আতঙ্কিত হয়ে গাড়ির কাচ ভেঙে পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে চালকসহ মোট ছয়জনকে আটক করতে সক্ষম হন। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশ ধারণ করে ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ডাকাতি করে আসছিল।

তারা দূরপাল্লার বাস থামিয়ে তল্লাশি অভিযানের কথা বলে যাত্রীদের নামিয়ে নিজেদের গাড়িতে তুলে মারধর করে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুট করে সুবিধাজনক স্থানে ফেলে দিত।পদ্মা সেতু (উত্তর) থানায় এ ঘটনায় মামলা নম্বর-০৬, তারিখ ২৪/০১/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দণ্ডবিধির ১৭০/১৭১/৩৯৯/৪০২ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য, একজন বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য এবং একজন চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য রয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।উদ্ধারকৃত আলামত:একটি সিলভার রঙের হাইয়েচ মাইক্রোবাস, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি খেলনা পিস্তল, এক জোড়া হ্যান্ডকাপ, ডিবি পুলিশের লেখা কটি, একটি ইলেকট্রিক শক মেশিন ও একটি লেজার লাইট।পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিবির এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *