জহুরুল হক জনি, স্টাফ রিপোর্টার:
ভোটের সময় এলেই শোনা যায় ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই তা হারিয়ে যায়। এমন আক্ষেপে দিন কাটছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার ০২ নম্বর কুলাঘাট ইউনিয়নের শিবেরকুটি এলাকার বাসিন্দাদের।মহান স্বাধীনতার প্রায় ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও শিবেরকুটি-ধাইরখাতা সংযোগকারী রত্নাই নদীর ওপর স্থায়ী কোনো ব্রিজ নির্মিত হয়নি।প্রায় ৯৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসলেও এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি এলাকাবাসী।ফলে অন্তত চারটি গ্রামের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ নৌকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রত্নাই নদীর সরেয়ারতল ঘাটে স্থানীয়দের তৈরি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা।স্থানীয়দের মতে, শিবেরকুটি, দক্ষিণ শিবেরকুটি, বনগ্রাম ও ধাইরখাতাসহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত নির্ভর করছে এই সাঁকোর ওপর।
শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া, কৃষকদের হাট-বাজারে ফসল নিয়ে যাওয়া কিংবা অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকিপূর্ণ পথই ব্যবহার করতে হচ্ছে।শিবেরকুটির বাসিন্দা মোঃ রেজাউল করিম বলেন, ফসল উৎপাদন করলেও বড় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় বাজারে নিতে পারিনা। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়, ফলে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় এলেও নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেন না।কোদালখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তারিকুল ইসলাম বলেন, নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়। ২০১০ সালে বর্ষাকালে নৌকায় পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলসহ নদীতে পড়ে গিয়েছিলাম। সেই স্মৃতি এখনও ভয় ধরিয়ে দেয়।পশ্চিম বড়ুয়া রোটারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুনা লায়লা বেগম বলেন, গ্রামে আসা-যাওয়া কিংবা জেলা ও বিভাগীয় শহরে যেতে হলে এই ঘাট পার হতে হয়।
প্রতিবারই ঝুঁকি নিতে হয়।কুলাঘাট ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মোশাররফ হোসেন মুকুল বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুন্নত অবস্থার কারণে প্রায় ২০ হাজার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে।
দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবীব জানান, দেশব্যাপী গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় শিবেরকুটি সরেয়ারতল ঘাটে ব্রিজ নির্মাণের লক্ষ্যে ডিপিপি প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় মোট ৮২টি ব্রিজ নির্মাণের অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

