মোঃ মেহেদী হাসান, নাটোর জেলা প্রতিনিধি:
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আজও জীবন্ত হয়ে আছে গ্রামবাংলার এক শতবর্ষী ঐতিহ্য। কলাগাছের তৈরি ভেলায় ভেসে মাছ ধরার ব্যতিক্রমধর্মী এই উৎসব যেন সময়ের স্রোতেও মুছে যায়নি। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দিনব্যাপী উপজেলার ৩ নম্বর ইটালি ইউনিয়নের শালমারা গ্রামে ঐতিহ্যবাহী এ মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শালমারা দাখিল মাদ্রাসার উন্নয়নকল্পে প্রতি বছরের মতো এবারও ইসলামী জালসা উপলক্ষে গ্রামবাসীর উদ্যোগে শালমারা বড় দিঘীতে এ আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই উৎসবকে ঘিরে গ্রামজুড়ে নেমে আসে আনন্দের আমেজ। শত শত মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এই মিলনমেলায়।
মাছ ধরা উৎসবকে কেন্দ্র করে শালমারা বড় দিঘীর চারপাশে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন ও দর্শনার্থীরাও ভিড় করেন এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য উপভোগ করতে।সরেজমিনে দেখা যায়, শৌখিন মাছ শিকারীরা কলাগাছ দিয়ে তৈরি ভেলায় চড়ে দিঘীর বুকে ভাসছেন।
হাতে তৈরি জাল ফেলে কেউ ধরছেন মাছ, কেউ আবার ছোট নৌকায় বসে অংশ নিচ্ছেন শিকারে। জালে ধরা পড়ছে বোয়াল, শোল, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। দিঘীর পাড়ে দাঁড়িয়ে শত শত দর্শনার্থী করতালি আর উচ্ছ্বাসে সেই দৃশ্য উপভোগ করেন।শালমারা গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব জানান, এ বছর শালমারা দাখিল মাদ্রাসার ৮৩তম ইসলামী জালসা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জালসার একদিন আগেই গ্রামবাসী ঐতিহ্যবাহী এই মাছ ধরার উৎসবের আয়োজন করে থাকেন।
প্রায় ৮৩ বছর ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই উৎসব ধরে রেখেছে।এই আয়োজন শুধু মাছ ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে এটি সামাজিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও আনন্দের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।গ্রামবাংলার শিকড়কে বাঁচিয়ে রাখার এমন উদ্যোগই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের সংস্কৃতির সত্যিকারের পরিচয়।

