মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তপসিল ঘোষণার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও অন্য চার নির্বাচন কমিশনার। একইসঙ্গে তপশিলের পূর্ণ বিবরণসহ সিইসির জাতির উদ্দেশে ভাষণ রেকর্ড করার কাজও আজই সম্পন্ন হচ্ছে।
সন্ধ্যার পর ভাষণ প্রচারের কথা থাকলেও প্রয়োজন হলে তা আগামীকাল প্রচার করা হবে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।এদিকে তপসিল ঘোষণার পর অনুমতি ব্যতীত সব ধরনের সভা-সমাবেশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের ঘোষণা রয়েছে, এবং সে অনুযায়ী তপসিলের সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।আচরণবিধি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাতপশিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে আসবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী:• রাজনৈতিক দলগুলোকে সমাবেশের ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে অবহিত করতে হবে।
মনোনয়ন দাখিল, বাছাই, প্রত্যাহার ও প্রতীক পাওয়ার পরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। মাঠে নামবে পাঁচ শতাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী গ্রেপ্তার ক্ষমতাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অংশ নেবে।ইসির প্রস্তুতি ও বৈঠকসমূহতপসিল ঘোষণার আগে সিইসি ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরেছেন। প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি।
আজ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ভাষণ রেকর্ডের কাজ চূড়ান্ত হবে।প্রথমবার একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোটবাংলাদেশে আগে দুইবার গণভোট হলেও এবারই প্রথম একসঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রথমবার যুক্ত হয়েছে পোস্টাল ভোটিং; ইতোমধ্যে ৫০ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।এ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও আরও অর্ধশতাধিক দল অংশ নেবে।
নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ ভোটের বাইরে থাকছে। জাতীয় পার্টির একটি অংশ নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছে ইসি; তারা তপসিল ঘোষণার পক্ষে মত দিলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কিছু দলের উদ্বেগ রয়েছে।ভোটার সংখ্যা ও কেন্দ্রদেশব্যাপী ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ ভোটারের জন্য:• ভোটকেন্দ্র: ৪২,৭৬১টি• ভোটকক্ষ: ২,৪৪,৬৪৯টিo পুরুষ: ১,১৫,১৩৭o নারী: ১,২৯,৬০২প্রতি কেন্দ্রে গড়ে ৩,০০০ ভোটার এবং প্রতি ভোটকক্ষে ৫০০ নারী ও ৬০০ পুরুষ ভোটার থাকবে।আইনশৃঙ্খলা ও সমাবেশ নিয়ন্ত্রণঅন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে অনুমতি ছাড়া কোনো আন্দোলন বা সমাবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় প্রায় ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ।তপসিল থেকে ভোট পর্যন্ত দীর্ঘ ব্যবধানএবার তপসিল ঘোষণার পর ভোটের দিন পর্যন্ত প্রায় ৬০ দিনের ব্যবধান রাখা হচ্ছে। মনোনয়ন দাখিল থেকে প্রত্যাহার পর্যন্ত সময়ও বাড়তে পারে। তবে প্রচারণার সর্বোচ্চ সময় একই থাকবে ২১ দিন।ইতোমধ্যে আইন-বিধি, আরপিও সংশোধনী ও দলের নিবন্ধনসহ সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ৫৭টি রাজনৈতিক দল ও ৮১টি স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধিত হয়েছে। ইইউ ও অন্যান্য বিদেশি সংস্থাও ভোট পর্যবেক্ষণে আসবে।ইসির বক্তব্য নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, প্রস্তুতি সম্পূর্ণ শুধু তপসিল ঘোষণার অপেক্ষা। আগাম প্রচার সামগ্রী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ থাকবে।
আচরণবিধি ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অন্যদিকে কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এতে কোনো বড় চ্যালেঞ্জ নেই। সবার জন্য আইন সমান এটাই কমিশনের নির্দেশনা।

