আল আমিন | বিশেষ প্রতিনিধি, newsbd24liveবাংলার জলাভূমিতে নেমেছে ফুলের উৎসব। বিস্তীর্ণ বিল, দিঘি আর পুকুরের বুকে এখন কচুরিপানার ফুলের অপার সৌন্দর্য। বর্ষা শেষে প্রকৃতি যেন খুলে দিয়েছে রঙের পরশ—সবুজের ওপর বেগুনি ও নীলচে ফুলের ছড়াছড়ি। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, জলাভূমি নয়, যেন রূপকথার কোনো বাগান।রোদে ঝিলমিল করা পাপড়ি, হাওয়ায় দুলে ওঠা ফুল, আর তার ভেতরে প্রকৃতির নকশায় আঁকা হলুদ বিন্দু—সব মিলিয়ে এক স্বর্গীয় দৃশ্য। স্থানীয়দের ভাষায়, “এ যেন প্রকৃতির নিজ হাতে সাজানো উৎসব।”প্রতিদিন শত শত মানুষ মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করছেন এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে এসব ছবি ও ভিডিও, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধতার জোয়ার তুলেছে।স্থানীয়রা জানালেন, বছরের এই সময়টিতেই কচুরিপানার ফুল বেশি ফোটে। কেউ একে বলেন “ফুলের মৌসুম”, কেউ আবার “জলের বুকে ফুলের মেলা”।যদিও কচুরিপানাকে অনেকেই জলাশয়ের ক্ষতিকর আগাছা হিসেবে চেনেন, তবে প্রকৃতিবিদরা বলছেন, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এ উদ্ভিদ পরিবেশের জন্য উপকারীও হতে পারে। এটি জলের বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে সহায়ক এবং জৈববৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।পরিবেশবিদদের মতে, কচুরিপানার ফুল কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; বরং আবহাওয়ার পরিবর্তনের সূক্ষ্ম ইঙ্গিতও বহন করে। তারা বলেন, “যখন তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার অনুপাত ঠিক থাকে, তখনই এই ফুলগুলো সবচেয়ে বেশি ফোটে।”সব মিলিয়ে, কচুরিপানার ফুলে সজ্জিত এই জলাভূমি আজ যেন এক প্রাকৃতিক চিত্রকর্ম—যেখানে আলো, বাতাস, জল আর ফুল মিলেমিশে সৃষ্টি করেছে মুগ্ধতার এক রূপকথা।

