মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, ঢাকা জেলা, বিশেষ প্রতিনিধি:
চব্বিশের জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) জেনেভা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকারদের জন্য এক “গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত” হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তার ভাষায়, গত বছরের বিক্ষোভ দমনের সময় সংঘটিত ভয়াবহ অধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।তিনি জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে ওএইচসিএইচআর বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে অভিযুক্তদের, বিশেষ করে নেতৃত্বের অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার, প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।ওএইচসিএইচআরের মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে পরিচালিত বিচার অবশ্যই সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার ও আইনি মানদণ্ড পূরণ করবে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন অনুপস্থিতিতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, তারা নীতিগতভাবেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে এবং এ ধরনের রায়ের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক আশা প্রকাশ করেছেন যে বাংলাদেশ সত্য উদ্ঘাটন, ক্ষতিপূরণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপত্তা খাত সংস্কারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপে এগিয়ে যাবে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মান পূরণ করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় প্রস্তুত রয়েছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা এড়াতে সকল পক্ষকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, ওএইচসিএইচআরের তথ্যমতে ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের দমন-পীড়নে অন্তত ১,৪০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

