সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাঙামাটি-২৯৯ আসনে মাঠে বিএনপি প্রার্থী দীপেন দেওয়ান

Spread the love

নোমাইনুল ইসলাম,বাঘাইছড়ি( রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাঙামাটি-২৯৯ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রতিদিনই তিনি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও জনবহুল স্থানে ধারাবাহিক গণসংযোগ ও নির্বাচনী পথসভা করছেন।এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট বাজারে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন।

পরে বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী বাজার, রূপকারী এলাকা, মারিশ্যা ইউনিয়নের তুলাবান বাজার এবং সর্বশেষ বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর চৌমুহনী চত্বরে একাধিক পথসভায় অংশ নেন। প্রতিটি পথসভায় স্থানীয় জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এডভোকেট দীপেন দেওয়ান আমতলী ইউনিয়ন, খেদারমারা ইউনিয়নসহ বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি দোকানদার, শ্রমজীবী মানুষ, নারী ভোটার ও তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও মতামত শোনেন।

নির্বাচনী পথসভাগুলোতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এডভোকেট দীপেন দেওয়ান বাঘাইছড়িবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করে বলেন,“আমি পাহাড়ের সন্তান, পাহাড়ের মানুষের সুখ-দুঃখ আমার জানা। আপনারা যদি আমাকে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে পাঠান, তাহলে বাঘাইছড়ির শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটানোই তার প্রধান লক্ষ্য।

বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পাহাড়ি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।বক্তব্যে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, “বিএনপি সরকারের আমলে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে দেশের মা-বোনদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”এডভোকেট দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে বেকারত্ব দূরীকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি বিশেষভাবে রাঙামাটি জেলায় সরকারি চাকরি ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ঘুষবাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে ‘জিরো টলারেন্স’। যোগ্যতা ছাড়া কেউ চাকরি পাবে না, আবার যোগ্য কেউ বঞ্চিতও হবে না।”তিনি দাবি করেন, বিএনপির শাসনামলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত থাকে, দ্রব্যমূল্য সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এবং পাহাড়-সমতল নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে।পথসভাগুলোতে বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দলের আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরে ৮ দফা কর্মসূচি ব্যাখ্যা করেন। তারা বলেন, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, কৃষিখাতের আধুনিকায়ন, খাল খনন, পাহাড়ি অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তথ্য ও প্রযুক্তিখাতকে আরও শক্তিশালী করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ সময় এডভোকেট দীপেন দেওয়ানের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক মনীষ দেওয়ান (অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল), রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মৈত্রী চাকমা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টো ও সাইফুল ইসলাম পনির, বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হাজী নিজাম উদ্দিন বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম উদ্দিন বাহারি, সদস্য সচিব উমর আলীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *