সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

ইরানে হামলা হলে দাউ দাউ করে জ্বলবে মধ্যপ্রাচ্য: ট্রাম্পকে হিজবুল্লাহর চরম হুঁশিয়ারি!

Spread the love

ডেক্স রিপোর্ট, newsbd24live:


​মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ পশ্চিম এশিয়ার জলসীমায় প্রবেশ করতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক উপস্থিতির জবাবে ইরান ও তার মিত্র বাহিনী বা ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ আমেরিকার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের বা ‘টোটাল ওয়ার’-এর কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।


​ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে আমেরিকা তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যেই মার্কিন রণতরীর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তা পুরো অঞ্চলকে আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত করবে। হিজবুল্লাহ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সুরক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। সংগঠনটি তাদের সমর্থকদের ‘আমেরিকান ও জায়নবাদী ষড়যন্ত্র’-এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। শুধু হিজবুল্লাহ নয়, ইরাকের আধাসামরিক বাহিনী ‘কাতাইব হিজবুল্লাহ’ও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানে আঘাত হানা হলে তারা আমেরিকার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে নামবে।


​অন্যদিকে, লোহিত সাগরে আবারও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তারা একটি ভিডিও বার্তায় জ্বলন্ত জাহাজের ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে লিখেছে ‘শিগগিরই’। একে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নতুন করে হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে এর আগে হুথিরা শতাধিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


​ইরানও আমেরিকার এই সামরিক আস্ফালনের কড়া জবাব দিয়েছে। তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার মাত্রা যা-ই হোক না কেন, ইরান একে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হলে কঠিনতম জবাব দেওয়া হবে। এর আগে তেহরানের রাস্তায় ‘বাতাস বুনলে কালবৈশাখী পোহাতে হবে’ স্লোগান সম্বলিত বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করে ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়। খামেনি সরাসরি ট্রাম্পকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ইরানি জনগণকে ভুল না বোঝার জন্য সতর্ক করেছেন।


​বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি এই মুহূর্তে হিতে বিপরীত হয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ফায়দা লুটতে, কিন্তু তার এই পদক্ষেপ ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর ফাটল ধরা শরিকদের আবারও এক ছাতার নিচে নিয়ে এসেছে। প্রথমে ইরানের বিক্ষোভকারীদের সমর্থন, এরপর হামলার হুমকি এবং পরে রাশিয়ার সতর্কবার্তায় পিছিয়ে আসা—ট্রাম্পের এই দোদুল্যমান নীতি ইরান ও তার মিত্রদের আরও সংঘবদ্ধ হতে সাহায্য করেছে। ট্রাম্প ভেবেছিলেন অর্থনৈতিক ধস ও বিক্ষোভে ইরান দুর্বল হয়ে পড়বে, কিন্তু বহিরাগত হুমকির মুখে দেশটির মিত্ররা এখন সর্বোচ্চ নেতার সুরক্ষায় একাট্টা হয়েছে।


​পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করে আলোচনার পথে হাঁটবে, নাকি সংঘাতের পথ বেছে নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *