ডেক্স রিপোর্ট:
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৬ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে বিশ্ব থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেশটিতে টানা ৪০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন গোপন নথির বরাতে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের এডিটোরিয়াল বোর্ডের পর্যালোচনা করা গোপন সরকারি নথি ও বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি দেশজুড়ে চলা অভিযানের সময় এই বিশাল সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। যদিও এই তথ্যের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো নিরপেক্ষ কোনো সংস্থা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি, তবে এটি প্রমাণিত হলে তা হবে ইরানের ইতিহাসে বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ দুই দিনের গণহত্যা। এর আগে ইরান ইন্টারন্যাশনালের হাতে আসা নিরাপত্তা সংস্থা ও মাঠপর্যায়ের তথ্যে অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহতের কথা বলা হয়েছিল। তবে নতুন নথিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের ৪০০টিরও বেশি শহর ও মফস্বলে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হয় এবং দেশজুড়ে প্রায় ৪ হাজার পয়েন্টে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু গোপন নথিতে দেখা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি সংসদে পেশ করা প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ২৭,৫০০ উল্লেখ করা হলেও, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের পরবর্তী গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ৩৬,৫০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা সরকারিভাবে যা প্রকাশ করা হচ্ছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি। সরকারবিরোধীদের কঠোর হাতে দমন করতে গিয়ে যে নৃশংসতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, তা নজিরবিহীন।
এদিকে, হত্যাযজ্ঞের খবরের পাশাপাশি ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার খবরও পাওয়া গেছে। ইন্টারনেট মনিটরিং গ্রুপ ‘নেটব্লকস’ জানিয়েছে, ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সময়কাল ৪০০ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগের মাত্রা সাধারণ সময়ের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে।
এর ফলে দেশটির সাধারণ মানুষ বহির্বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং ভেতরে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার প্রকৃত চিত্র বা ভিডিও ফুটেজ বাইরে পাঠানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যের প্রবাহ রোধ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই দীর্ঘমেয়াদী ইন্টারনেট শাটডাউন বজায় রাখা হয়েছে।

