মোঃ মাইউদুর রহমান লিও, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ইরানকে পরাজিত করা সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় সামরিক বিশ্লেষক প্রবীন সাওহনি। তার মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘই হোক না কেন, ইরান সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম।এক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, ইরানের জন্য এই সংঘাতটি কেবল সামরিক লড়াই নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি ইরান যুদ্ধ শেষে তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে সেটিকে পরাজয় হিসেবে দেখা যাবে না।তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক সময় অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
তার মতে, গত বছরের সীমিত সময়ের সংঘাতেও দেখা গেছে যে ইসরায়েলকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।বিশ্লেষক প্রবীন সাওহনি দাবি করেন, অতীত সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান তাদের সামরিক কমান্ড কাঠামো পুনর্গঠন করেছে এবং ‘ডিসেন্ট্রালাইজড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এতে নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে একক নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যুদ্ধ পরিচালনা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।তার মতে, এই সংঘাতে ইরান ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে জাতীয়তাবাদকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে।
এছাড়া তিনি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব কৌশলগত এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।প্রবীন সাওহনি আরও বলেন, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠী ও বিভিন্ন সংঘাতময় ফ্রন্ট সক্রিয় থাকায় যুদ্ধটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং সম্ভাব্য সংঘাতের ফলাফল নির্ভর করবে বহু সামরিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপাদানের ওপর।

