সর্বশেষ
মার্চ ১৭, ২০২৬

কমলগঞ্জে ডিজিটাল বিপ্লবের ঘোষণা !ঈদুল ফিতরের পরেই শুরু হচ্ছে উই আর কমলগঞ্জ বা WAK এর অফিসিয়াল কার্যক্রম

Spread the love

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি:

আসন্ন ঈদুল ফিতরের পরপরই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় শুরু হতে যাচ্ছে এক বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব। ‘উই আর কমলগঞ্জ’ বা সংক্ষেপে ‘WAK’ (ওয়াক) নাম নিয়ে এক নতুন উদ্দীপনায় মাঠে নামছে এই স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনটি। পুরো কমলগঞ্জকে একটি ডিজিটাল এবং স্মার্ট জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে এই যাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র ডক্টর অপু আবুল হাসান।

​স্মার্ট কমলগঞ্জের সারথি হবে ‘WAK’ অ্যাপ ডক্টর অপু আবুল হাসান জানান, কমলগঞ্জবাসীকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করতে তারা একটি বিশেষ অ্যাপ ডেভেলপ করেছেন। এই একটি অ্যাপের মাধ্যমেই উপজেলার সকল সরকারি ও প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য এটি ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করবে, যা কমলগঞ্জের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বদরবারে ব্র্যান্ডিং করবে।​

তিন স্তরের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো: সংগঠনটি মূলত তিনটি প্রধান কমিটির মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে: উপদেষ্টা কমিটি, পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী ও কার্যনির্বাহী কমিটি এবং একটি বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। ঈদের পরেই অত্যন্ত স্বচ্ছতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব কমিটিতে সদস্য নির্বাচন করা হবে।​

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব: ওয়াক-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কমলগঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা। ডক্টর অপু আবুল হাসান বলেন, প্রয়োজনে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজাতে সাহায্য করবে ওয়াক। এছাড়া স্থানীয় প্রতিটি এলাকায় ‘পাঠচক্র’ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের জ্ঞানতৃষ্ণা মেটানো এবং নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।​

সুদমুক্ত অর্থনৈতিক মডেল ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি: বিদেশি ইনভেস্টমেন্টের সুযোগ কম থাকায় কমলগঞ্জে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াক। এর জন্য তারা ‘ফাইভ এস’ (5S) নামক একটি সুদমুক্ত অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে কাজ করবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন গতি সঞ্চার করবে।​

স্কিল ট্রেনিং ও বেকারত্ব দূরীকরণ: শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করতে এবং প্রবাসগামীদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে ওয়াক বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রাইভিং, প্লাম্বিং, মোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ভাষা শিক্ষা এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের মতো যুগোপযোগী কোর্স।​

স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক কার্যক্রম:সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও চক্ষু শিবিরের মতো মানবিক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পালন করবে সংগঠনটি। লক্ষ্য একটাই—যাতে অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা বঞ্চিত না হয়।​

ন্যায্যবিচার ও প্রেসার গ্রুপ:কমলগঞ্জের কোথাও যেন অন্যায়, অবিচার বা দুর্নীতি প্রশ্রয় না পায়, সেজন্য একটি শক্তিশালী ‘প্রেসার গ্রুপ’ গঠন করবে ওয়াক। এই গ্রুপটি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাধারণ মানুষের ন্যায্যবিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে।​

সরকারি সাহায্য ছাড়াই উন্নয়নের মডেল:

ডক্টর অপু আবুল হাসান তার বিবৃতিতে বলেন, ওয়াক যদি সফলভাবে পরিচালিত হয়, তবে এটি সারা বাংলাদেশের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। কেবল ইচ্ছাশক্তি এবং কঠোর মনোবল থাকলে সরকারি সাহায্য ছাড়াও যে একটি এলাকার উন্নয়ন সম্ভব, তা ওয়াক প্রমাণ করবে। ঈদের পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে এই সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠাতা ডক্টর অপু আবুল হাসান কমলগঞ্জবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং এই মহতী উদ্যোগ সফল করতে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *