ডেস্ক রিপোর্ট:
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর (HRANA) তথ্যমতে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫৪৪ ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরিস্থিতির ওপর গভীরভাবে নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা ভাবছে।
ইরানে এবারের বিক্ষোভকে ২০২২-২৩ সালের মহসা আমিনি হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট আন্দোলনের চেয়েও বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি, ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং ২০২৬ সালের বাজেটে ৬২ শতাংশ কর বৃদ্ধির প্রস্তাবের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। শুরুতে ব্যবসায়ীরা এই বিক্ষোভ শুরু করলেও এখন তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
ইরানের এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আমাদের সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমরা অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছি। খুব শীঘ্রই আমরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখছে যা হয়তো আগে কখনো দেখা যায়নি। আমেরিকা ইরানের সাহসী জনগণের পাশে রয়েছে।
অন্যদিকে, বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ইরান সরকার। ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা এই বিক্ষোভে অংশ নেবে, তাদের ‘ঈশ্বরের শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘ভন্ড’ ও ‘নাশকতাকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দাঙ্গা উসকে দিচ্ছে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ ইরানি মুদ্রার মান তলানিতে ঠেকলে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী হলে সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। তবে অর্থনৈতিক দাবি নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পুরোপুরি সরকারবিরোধী অবস্থানে চলে গেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই হুঙ্কার এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

