ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজ বিডি ২৪ লাইভ:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ওপর জোর দিয়ে প্রতিবেশী দেশ কানাডা ও মেক্সিকোর সাথে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। মিশিগানের ডেট্রয়েটে এক সফরে গিয়ে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ) আমেরিকার জন্য এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। তার এই মন্তব্য মার্কিন অটোমোবাইল শিল্পে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার ডেট্রয়েটে ফোর্ডের একটি কারখানা পরিদর্শনের সময় ট্রাম্প বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রকৃত লাভ নেই, এটি এখন অপ্রাসঙ্গিক। তিনি আরও বলেন, কানাডা ও মেক্সিকো এই চুক্তিটি চায় কারণ তাদের এটির প্রয়োজন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এধরণের পণ্যের কোনো প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ডেট্রয়েটের প্রধান তিন অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান—ফোর্ড, জেনারেল মোটরস এবং স্টেলান্টিসের। এই কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন মেক্সিকো ও কানাডার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। প্রতি বছর এই দুই দেশে তৈরি যন্ত্রাংশ দিয়ে লাখ লাখ গাড়ি তৈরি করে আমেরিকার বাজারে আনা হয়।
এর আগে নভেম্বরে টেসলা, টয়োটা এবং ফোর্ডের মতো বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ইউএসএমসিএ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল।
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকান অটোমোটিভ পলিসি কাউন্সিলের তথ্যমতে, এই আঞ্চলিক সমন্বয়ের ফলে গাড়ি কোম্পানিগুলো বছরে হাজার হাজার কোটি ডলার সাশ্রয় করতে পারে, যা বিশ্ববাজারে তাদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করে।
তবে ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমাদের কানাডা বা মেক্সিকোতে তৈরি গাড়ির দরকার নেই। আমরা চাই উৎপাদন ব্যবস্থা আমাদের দেশে ফিরে আসুক এবং সেটাই এখন হচ্ছে।
জেনারেল মোটরসের প্রেসিডেন্ট মার্ক রিইস এ বিষয়ে বলেন, আমাদের সাপ্লাই চেইন তিনটি দেশজুড়েই বিস্তৃত এবং এটি অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। উত্তর আমেরিকার এই সমন্বিত ব্যবস্থা আমাদের অন্যতম বড় শক্তি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে নাফটা (NAFTA) বাতিল করে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই ইউএসএমসিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ছয় বছর পর এর পর্যালোচনার কথা রয়েছে। ২০২৬ সালেই সিদ্ধান্ত হবে চুক্তিটি নবায়ন করা হবে নাকি বাতিল করা হবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও। মঙ্গলবার ফোর্ড এবং স্টেলান্টিসের শেয়ারের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সত্যিই এই চুক্তি বাতিল বা কঠোর করা হয়, তবে জাপানি বা এশীয় গাড়ি কোম্পানিগুলোর তুলনায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাজার হারাতে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আমেরিকার অটোমোবাইল শ্রমিকদের ওপর।
তথ্যসূত্র:
রয়টার্স ও আল জাজিরা

