সর্বশেষ
এপ্রিল ৭, ২০২৬

বিবাদ মিটছেই না! থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সংঘাতে নতুন করে নিহত ৬

Spread the love

ডেক্স রিপোর্ট, নিউজ বিডি ২৪ লাইভ

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ এবং গোলাবর্ষণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। মঙ্গলবার কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর হামলায় তাদের দেশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়ে।


​কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মধ্যরাতে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী সীমান্ত সংলগ্ন বান্টিয়ান মিনচে প্রদেশে ভারী গোলাবর্ষণ করে। এই হামলায় ন্যাশনাল রোড ৫৬ দিয়ে যাতায়াতকারী দুইজন সাধারণ নাগরিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এর ফলে সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে কম্বোডিয়ায় মোট ছয়জন সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।


​অন্যদিকে থাইল্যান্ড দাবি করেছে, তাদের একজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। থাই কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কম্বোডিয়ার বাহিনী বুরিরাম প্রদেশের বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে বিএম-২১ রকেট নিক্ষেপ করেছে। এর জবাবেই সোমবার ভোর থেকে বিমান হামলা বা এয়ার স্ট্রাইক শুরু করে থাইল্যান্ড।


​পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, থাইল্যান্ডের সেকেন্ড আর্মি রিজিয়ন কর্তৃপক্ষ সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। এর আগে গত গ্রীষ্মে দুই দেশের মধ্যে টানা পাঁচ দিনের সংঘর্ষে ৪৩ জন নিহত হয়েছিলেন এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, গত মাসে মাইন বিস্ফোরণে থাই সেনাসদস্যরা আহত হওয়ার পর সেই চুক্তি স্থগিত করে থাইল্যান্ড।
​আন্তর্জাতিক মহল থেকে উভয় দেশকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার এবং উত্তেজনা কমানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন।


​তবে ব্যাংককে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বেশ কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সেই পর্যায় অনেক আগেই পার করে এসেছি। আপনারা যদি সত্যিই পরিস্থিতি থামাতে চান, তবে যারা আক্রমণ করছে তাদের থামতে বলুন।


​সীমান্তে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।
​উৎস: ডব্লিউআইওএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *