নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটে সাইবার মামলার পলাতক আসামী ধরতে গিয়ে হামলার শিকার সিআইডি কর্মকর্তার ওপর আক্রমণকারীকে মাত্র ৭ ঘণ্টার ব্যবধানে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার রাতের অন্ধকারে সিআইডির সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) খোরশেদ আলমকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়া দুর্ধর্ষ অপরাধী রহিম উদ্দিন রাজুকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডি এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) যৌথ অভিযানে এই সাফল্য আসে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডির এসআই খোরশেদ আলম কোতয়ালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় নগরীর সাগরদিঘীরপাড় এলাকায় অভিযান চালান। লক্ষ্য ছিল সাইবার সুরক্ষা মামলার পলাতক আসামী রহিম উদ্দিন রাজুকে গ্রেফতার করা। কিন্তু অভিযানের একপর্যায়ে আসামী রাজু এসআই খোরশেদ আলমের বাম বগলের নিচে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে এবং কৌশলে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় এসআই খোরশেদকে তাৎক্ষণিকভাবে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরপরই আসামিকে ধরতে মাঠে নামে সিআইডি ও পুলিশের একাধিক টিম। প্রযুক্তির সহায়তায় এবং সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে আসামীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরদিন, ৯ ডিসেম্বর ভোর ৩টা ৫৭ মিনিটে সিআইডি, কোতয়ালী থানা ও এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি যৌথ দল নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন মজুমদারী এলাকার সৈয়দ বাড়ির একটি মেস ঘেরাও করে। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় পলাতক রহিম উদ্দিন রাজুকে।
গ্রেফতারের পর তল্লাশি চালিয়ে রাজুর কাছ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ‘কেন্দ্রীয় সদস্য’ পদবিযুক্ত একটি ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাজু একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, মারামারি, অস্ত্রবাজি, চুরি, হামলা এবং ব্ল্যাকমেইলিংসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে সিআইডি কর্মকর্তার ওপর হামলার কথা স্বীকার করেছে।
পরবর্তীতে আসামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাগরদিঘী এলাকার একটি সরকারি নালা থেকে এসআই খোরশেদ আলমকে আঘাত করতে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে, আহত এসআই খোরশেদ আলমের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বর্তমানে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ক্ষতটি গভীর হওয়ায় তাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় সিআইডির একজন কনস্টেবল বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে নিয়মিত মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসামীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তদন্ত চলমান থাকবে।

