সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

শ্রমিক সুরক্ষায় তিন আইএলও কনভেনশনে স্বাক্ষর: বাংলাদেশের শ্রম ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

Spread the love

বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আজ এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপিত হলো। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যা দেশের শ্রম সুরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করল।বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন অনুসমর্থনপত্রে স্বাক্ষর করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশে আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোনসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।অনুসমর্থিত তিনটি কনভেনশন হলো—১️⃣ পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কনভেনশন, ১৯৮১ (নং-১৫৫)২️⃣ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রচারণামূলক কাঠামো কনভেনশন, ২০০৬ (নং-১৮৭)৩️⃣ কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ কনভেনশন, ২০১৯ (নং-১৯০)এই তিনটির মধ্যে কনভেনশন ১৫৫ ও ১৮৭ হলো আইএলওর মৌলিক কনভেনশন, যেগুলো ২০২২ সালে মৌলিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়।প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,“রানা প্লাজার শ্রমিকরা তাঁদের জীবন দিয়ে যে দায়িত্ব আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিল, আজ আমরা তার একটি ধাপ অতিক্রম করলাম। এটি কেবল স্বাক্ষর নয়, এটি একটি অঙ্গীকার—বাংলাদেশের প্রতিটি শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য।”তিনি আরও বলেন,“অতীতে শুধু বলা হয়েছে—‘হচ্ছে, হবে’। আমরা বলেছি—‘হবে নয়, এখনই করব’। আজ সেটাই করলাম।”শ্রম উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন,“এটি আমাদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করেছি।”আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোন বলেন,“বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ায় উদাহরণ তৈরি করল। শ্রম সুরক্ষায় আইএলও বাংলাদেশের পাশে থাকবে।”এই কনভেনশনগুলোর অনুসমর্থনের ফলে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ, যেটি আইএলওর সব ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুস্বাক্ষর করেছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের শ্রমনীতি ও শিল্পখাতে আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়াবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *