সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

ওয়ান-টুর ভেতর ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন ভুলে যান: চরমোনাই পীরের হুশিয়ারি

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের অনিয়মের স্থায়ী সমাধানে জাতীয় নির্বাচনের আগেই ‘গণভোট’ আয়োজনের জোর দাবি জানিয়েছে সমমনা আটটি রাজনৈতিক দল। রংপুরে অনুষ্ঠিত এক বিশাল বিভাগীয় মহাসমাবেশে দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বলেছেন, ফ্যাসিবাদ মুক্তি, খুনিদের বিচার এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া ছাত্র-জনতার ত্যাগ বৃথা যাবে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কালো টাকার দৌরাত্ম্য এবং গুন্ডামির দিন শেষ, এখন সংস্কারের সময়।
​বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রপোশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি চালু এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণসহ ৫ দফা দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
​সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, এতগুলো মায়ের কোল সন্তানহারা হলো, অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করল, চোখ হারাল। আমাদের মৌলিক দাবি ছিল দেশের সংস্কার হবে, খুনি ও টাকা পাচারকারীদের দৃশ্যমান বিচার হবে এবং এরপর জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, একশ্রেণীর ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী সংস্কার এবং বিচার প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব না দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য শুধু পাগল নয়, বরং ডবল পাগল হয়ে গেছে।
​চরমোনাই পীর আরও বলেন, একজনকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আরেকজনকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য কিংবা এদেশের ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি। ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করতে এবং খুনিদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে। আজ যদি তারা এটা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা তাদের বলতে চাই—আপনারা যারা ভেবেছিলেন ওয়ান-টুর ভেতর ক্ষমতায় যাবেন, সেই স্বপ্ন ভুলে যান। রংপুর থেকেই চাঁদাবাজ, ক্ষমতালোভী ও বিদেশের তাবেদারি যারা বাস্তবায়ন করতে চায়, তাদের উৎখাত করতে হবে। আগের মতো গুন্ডামি এবং কালো টাকার দৌরাত্ম্য দিয়ে এই জাগ্রত জনতাকে আর থামানো যাবে না।
​সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান গণভোটের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে ভোটের চরিত্র পাল্টাতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো যখন একমত হতে পারে না বা নিজেদের ঝগড়া মেটাতে পারে না, তখন নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। গণভোট হওয়াটা জাতির জন্য ভালো লক্ষণ, আর না হওয়াটা খারাপ লক্ষণ।


​অতীতের নির্বাচনগুলোর কঠোর সমালোচনা করে অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ২০১৪ সালে বিনা ভোটে নির্বাচন হয়েছে। ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। আর ২০২৪ সালের নির্বাচনে কেউ ভোট দিতেও যায়নি, কেউ দাঁড়াতেও চায়নি। সাংবাদিকরা রিপোর্ট করেছেন যে ভোটকেন্দ্রে মানুষ নেই, কয়েকটি কুত্তা শুয়ে আছে।

এই কুত্তা শুয়ে থাকার নির্বাচন বাংলাদেশে আমরা আর চলতে দিতে চাই না।
​তিনি আরও বলেন, যারা গণভোট হতে দিতে চায় না, তারা জনগণের ভালো চায় না। আগামীতে গণভোট যখনই হোক, যেভাবেই হোক, আমরা আগে চাই। যারা গণভোটের বিপক্ষে থাকবে, তারা পরাজিত হবে। চোর-ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের বাংলাদেশে আর কোনো জায়গা হবে না।
​বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, আমরা বিচারের কথা বলেছি। অন্যায় যে করে আর অন্যায়ে যে সাহায্য করে, উভয়ের অপরাধ সমান।

তাই যাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়, তাদের যারা সহযোগিতা করেছে, তাদেরও নিষিদ্ধ করা উচিত। আশা করি প্রধান উপদেষ্টা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
​সমাবেশস্থলে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী হাত তুলে গণভোটের পক্ষে সমর্থন জানান। এ সময় বক্তারা জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট এবং সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি (পিআর) চালুর দাবিতে অনড় থাকার ঘোষণা দেন।
​সমাবেশে যোগ দিতে দুপুর ১২টার পর থেকেই রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে জড়ো হন।


​অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সালাহউদ্দিন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, সাংগঠনিক সচিব হাফেজ মাওলানা আবু তাহের খান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি মাহমুদুল হাসান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলামসহ আট দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *