ডেক্স রিপোর্ট, newsbd24live:
আফগানিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। রোববার ভোররাতে দেশটির পূর্ব সীমান্ত সংলগ্ন নানগারহার ও পাক্তিকা প্রদেশের আবাসিক এলাকা ও একটি স্কুলে এই হামলা চালানো হয়। আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ কয়েক ডজন নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, এসব হামলার নেপথ্যে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে নাশকতা চালাচ্ছে। তবে দীর্ঘ দিন ধরেই কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
নানগারহার প্রদেশের পুলিশ মুখপাত্র সৈয়দ তাইয়েব হাম্মাদ ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে শুরু হওয়া এই বোমা হামলায় তিনটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি বাড়িতে থাকা ২৩ জন সদস্যের মধ্যে প্রায় সবাই হতাহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তান যে অন্যায়ভাবে বেসামরিক মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে, তার উপযুক্ত ও সুপরিকল্পিত জবাব দেওয়া হবে।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। গত বছরের শেষ তিন মাসেও পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে অন্তত ৭০ জন আফগান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এর আগে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। চলতি মাসে সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় আটক তিন পাকিস্তানি সেনার মুক্তির মাধ্যমে সম্পর্কের বরফ গলার সম্ভাবনা তৈরি হলেও রোববারের হামলা সব সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে।
বর্তমানে দুই দেশের স্থল সীমান্ত দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। নানগারহারের গিরদি কাস গ্রামে নিহতদের গণকবর দেওয়ার সময় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা, এপি, এএফপি

