ডেক্স রিপোর্ট, newsbd24live:
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যবর্তী সীমান্ত এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত তিন দিন ধরে চলা এই পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের মধ্যে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের মাঝেই ইসলামাবাদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আফগানিস্তানের সাথে কোনো সংলাপে বসবে না তারা।
শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কাজা ক্যালাস উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে ইরান, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা
গত সপ্তাহান্তে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার মাধ্যমে এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। এর জবাবে গত বৃহস্পতিবার থেকে পাকিস্তানের ছয়টি জেলায় তালেবান বাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ তালেবানের প্রধান ঘাঁটি কান্দাহার ও পাক্তিয়া অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এটিই ছিল তাদের শক্ত ঘাঁটিতে পাকিস্তানের প্রথম সরাসরি আকাশপথের আক্রমণ।
সীমান্তে ড্রোন ও স্থল হামলা
শনিবার সকালে সীমান্তের মিরামশাহ এবং স্পিনওয়াম এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক ক্যাম্পে তালেবান বাহিনী ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্নু শহরের একটি মসজিদে ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও তালেবানের একাধিক অবস্থান লক্ষ্য করে কামানের গোলা ও আকাশপথে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
বিপুল প্রাণহানির দাবি:
উভয় পক্ষই এই যুদ্ধে প্রতিপক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। পাকিস্তান বলছে, তাদের ১২ জন সৈন্য শহীদ হয়েছেন এবং পাল্টা হামলায় ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। বিপরীতে তালেবান কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের ১৩ জন যোদ্ধা নিহত হলেও পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনাকে তারা হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই তথ্যের সত্যতা নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র এই সংকটে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তালেবান হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের দেশে হামলা চালানো টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) জঙ্গিরা আফগান মাটিতে আশ্রয় নিচ্ছে। যদিও কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বর্তমান এই পরিস্থিতি সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, এএফপি এবং ডন নিউজ।

