ডেক্স রিপোর্ট, নিউজবিডি২৪লাইভ:
রাজধানীর জিগাতলার একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেত্রী জান্নাত আরা রুমীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে তার মরদেহ উদ্ধারের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও পুলিশ ‘রাজনৈতিক হুমকি’ ও ‘পারিবারিক জটিলতা’—এই দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে রুমীকে তার কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত জান্নাত আরা রুমী এনসিপি’র ধানমন্ডি শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১৪ই নভেম্বর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের কর্মসূচি চলাকালে এক নারীকে মারধরের ঘটনায় রুমী সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তিনি আলোচনায় আসেন।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অভিযোগ করে বলেন, গত দুই মাস ধরে জান্নাত আরা রুমী ভয়াবহ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছিলেন। তাকে উদ্দেশ্য করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ঠিকানা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব কারণে রুমী মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বা ট্রমাটাইজড ছিলেন এবং দলের কর্মসূচিতে তাকে ইদানীং বিমর্ষ দেখা যেত।
আরিফুল ইসলাম আদীব আরও যোগ করেন যে, রুমীর পরিবারের সদস্যরাও ক্রমাগত হুমকি-ধামকির মুখে ছিলেন। এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যার প্ররোচনা, তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের কর্মীদের ক্রমাগত হুমকির কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
হাজারীবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক হয়রানির পাশাপাশি রুমীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের কিছু জটিলতার বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ব্যক্তিগত সংকট—সবগুলো দিক বিবেচনা করেই তদন্ত কাজ এগোচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

