মাত্র কয়েক সপ্তাহের অনলাইন পরিচয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক তরুণীর সঙ্গে এক চীনা যুবকের বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার ঘটনা নতুন করে আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের ভয়াবহতা উন্মোচন করেছে। যেখানে পাত্র-পাত্রী কেউই কারো ভাষা জানেন না, যোগাযোগের মাধ্যম কেবলই একটি ট্রান্সলেটর অ্যাপ, সেই স্বল্প পরিচয়ে বিয়ের সিদ্ধান্তই জন্ম দিয়েছে গভীর সন্দেহের। বিশেষত, যখন চীনা দূতাবাস নিজ নাগরিকদের এমন বিয়ে এবং অনলাইন স্ক্যাম থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে, তখন প্রশ্ন উঠছে—এই ‘বিয়ে’ কি নারী পাচারের একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদ?জানা যায়, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তানসহ দরিদ্র দেশের সহজ-সরল বা আর্থিকভাবে দুর্বল নারীদের টার্গেট করছে আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র। চীনের ‘এক সন্তান নীতি’-র কারণে দেশটির গ্রামীণ অঞ্চলে তৈরি হওয়া নারী সংকটকে কাজে লাগিয়ে এই চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের টোপ—অনলাইন প্রেম, চটকদার বিয়ের প্রস্তাব বা চীনে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন।ট্রান্সলেটরে প্রেম, চীনে পাচার: ভয়াবহ চিত্রঅনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেনামী অ্যাপস বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সম্পর্ক স্থাপন করে চীনা পুরুষরা বাংলাদেশে আসছেন এবং খুব কম সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগী নারীদের বিয়ে করে বা নকল কাগজপত্র তৈরি করে স্পাউস ভিসায় চীনে নিয়ে যাচ্ছেন। চীনে পৌঁছানোর পরই তাদের আসল উদ্দেশ্য স্পষ্ট হচ্ছে। অনেক নারীকে সেখানে বয়স্ক পুরুষের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে অথবা জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে।ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এই চক্রের বেশ কয়েকটি দলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু চক্রের জাল এতটাই বিস্তৃত যে, এর ভয়াবহতা থামানো যাচ্ছে না। চীনা দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে সরাসরি মানব পাচারের কথা বলতে না পারলেও, তাদের বিবৃতিতে এই ধরনের বিয়ে ও অনলাইন স্ক্যামে না জড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা এই ভয়াবহ চিত্রের দিকেই ইঙ্গিত করে।এক ভুক্তভোগীর পালিয়ে আসার অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, পাচার হওয়ার পর অনেকেই অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দিনের পর দিন বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। সরকারের কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও এই চক্রের দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় প্রতারণার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগসমাজবিজ্ঞানী এবং মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে মানব পাচারের একটি নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অর্থনৈতিক লোভ এবং স্বল্প পরিচয়ের অনলাইন প্রেমের মোহে পড়ে দেশের নারীরা সহজেই এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। এটি কেবল একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ, যা দেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করছে।সতর্ক বার্তাnewsbd24live-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল নারীকে বিশেষ সতর্ক করা হচ্ছে—স্বল্প পরিচয়, অনলাইন প্রেম বা চীনা নাগরিকের সাথে দ্রুত বিয়ের ফাঁদে ভুলেও পা দেবেন না। মনে রাখবেন, লোভে পাপ, পাপে চীনে পাচার! কোনো প্রকার লোভনীয় প্রস্তাব বা দ্রুত বিয়ের প্রলোভনে প্ররোচিত না হয়ে, অচেনা ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক স্থাপনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং যেকোনো সন্দেহজনক ঘটনায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করুন।

