সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

মিয়ানমারে নির্বাচনের নামে প্রহসন! প্রতিবাদ করলেই দেওয়া হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।

Spread the love

ডেক্স রিপোর্ট, newsbd24live:

মিয়ানমারে জান্তা সরকার পরিচালিত আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু হয়েছে। নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইতিমধ্যে ২০০ জনেরও বেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর সমর্থিত এই নির্বাচনে বিরোধী মত দমনে জান্তা সরকার কঠোর সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।


​আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জেনারেল তুন তুন নাউং এক বৈঠকে জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২২৯ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১ জন পুরুষ এবং ২৮ জন নারী রয়েছেন। মোট ১৪০টি পৃথক মামলায় এই চার্জশিট গঠন করা হয়েছে।


​গত জুলাই মাসে প্রবর্তিত নতুন নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের বিরুদ্ধে কথা বলা, মিছিল করা বা সাধারণ মানুষকে ভোট বর্জন করতে উৎসাহিত করলে ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইতিমধ্যে অনেককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং কারো কারো ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ ৪৯ বছর পর্যন্ত পৌঁছেছে।


​সরকারবিরোধী প্রধান জোট জেনারেল স্ট্রাইক কোঅর্ডিনেশন বডির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ৩ ডিসেম্বর ম্যান্ডালে শহরে প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ নেতা হতেত মিয়াত অংকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয়েছে। তার জীবন বর্তমানে সংকটাপন্ন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা, কমেডিয়ান এবং জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা।


​সামরিক সরকারের মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন এক বিবৃতিতে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই নির্বাচনকে কীভাবে দেখছে তা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মিয়ানমার তার অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফেরার লক্ষ্যেই এই নির্বাচন আয়োজন করছে।
​তবে বিশ্লেষকরা এই নির্বাচনকে প্রহসন হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) কে ২০২৩ সালেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। দলের নেত্রী এবং নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও জান্তা সরকার দাবি করেছে যে তিনি সুস্থ আছেন।


​গৃহযুদ্ধ এবং তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই আগামী ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপ, ১১ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ এবং ২৫ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে মিয়ানমারে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
​সূত্র: এপি এবং সিএনএন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *