নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোর অটোরিকশা ছিনতাই ও নির্মম হত্যার ঘটনার মাত্র ত্রিশ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তুরাগ থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বিশেষ কায়দায় তৈরীকৃত নাইলনের রশি এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে তুরাগ থানাধীন ১৭ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশে এইচ ব্লক রোড নং-৩/এ-এর একটি ফাঁকা জমির ছনের ভেতর থেকে গলাকাটা অবস্থায় আনুমানিক ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় ৯৯৯-এ খবর দিলে তুরাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, নিহত কিশোরের নাম মোঃ শান্ত (১৬)। সে গত ১৬ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রিকশা চালাতে বেরিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। এ বিষয়ে ভিকটিমের মা কাফরুল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। পরে নিহতের মামা মোঃ শহিদুল ইসলাম মরদেহটি তার ভাগ্নে শান্তর বলে শনাক্ত করেন।
গ্রেফতার ও রহস্য উদ্ঘাটন
তথ্যপ্রযুক্তি ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তুরাগ থানা পুলিশ দ্রুততার সাথে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত চার আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে। প্রথমে কাফরুল এলাকা থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ সামিদুল হক মনা (৪২)-কে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের নাম প্রকাশ করে।
মনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে মোঃ রবিউল ইসলাম রানা (২০), হজরত আলি (৪৫) ও মোঃ নয়ন মিয়া (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়।
হত্যার লোমহর্ষক বিবরণ
গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অটোরিকশা ছিনতাই করে তা বিক্রি করাই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা শান্তকে কৌশলে ৭ নম্বর ব্রিজের কাছে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তারা ফাঁকা জমিতে নিয়ে গিয়ে নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। মোঃ রবিউল ইসলাম রানা নাইলনের রশি দিয়ে শান্তর গলা চেপে ধরে এবং মোঃ সামিদুল হক মনা ধারালো ছুরি দিয়ে শান্তর গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে।
হত্যার পর ডাকাত দলটি ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি নিয়ে ভাষানটেকের দিকে চলে যায় এবং হজরত আলি ও মোঃ নয়ন মিয়া-এর সহায়তায় নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নয়ন মিয়ার নিকট মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়।
উদ্ধার অভিযান
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে গত ১৯ নভেম্বর নেত্রকোনার দুর্গাপুর থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয় এবং ক্রেতা মোঃ নয়ন মিয়া-কে গ্রেফতার করা হয়। একই সাথে ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি ও বিশেষ কায়দায় তৈরি নাইলনের রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় তুরাগ থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তুরাগ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে।
সোর্স: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ

