জুলাই হত্যাসহ মোট ৯টি হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি এবং কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি আইয়ুব আলী সিকদার ওরফে ‘কিলার সিকদার’কে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তারের পর হত্যা মামলায় আদালতে না পাঠিয়ে শুধুমাত্র চাঁদাবাজি মামলায় চালান দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দ্রুত জামিন নিশ্চিত করার জন্য ওসির সঙ্গে ৫০ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক লেনদেনের (দেনদরবার) মাধ্যমে তথ্য গোপন করে হত্যা মামলার পরিবর্তে জামিনযোগ্য চাঁদাবাজি মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তার অপসারণ ও কিলার সিকদারকে যথাযথ হত্যা মামলায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আশুলিয়া থানা এলাকায় তাৎক্ষণিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।৯ হত্যা মামলার আসামিকে ‘ছাড়’ দেওয়ার অভিযোগস্থানীয় সূত্র এবং বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে আত্মগোপনে থাকা আইয়ুব আলী সিকদার ওরফে কিলার সিকদারকে গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত হলেও তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, জমি দখল ও নিরীহ মানুষের উপর নির্যাতনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। বিশেষভাবে ‘জুলাই হত্যা’ মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তার নাম এজাহারে রয়েছে।তবে গ্রেপ্তারের পর আশুলিয়া থানা পুলিশ তাকে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে আদালতে সোপর্দ না করে, রহস্যজনকভাবে তথ্য গোপন করে শুধুমাত্র একটি চাঁদাবাজি মামলায় চালান দেয়। স্থানীয় ‘জুলাই রেভ্যুলেশনারী এলায়েন্স, ঢাকা জেলা উত্তর’ অভিযোগ করেছে, কিলার সিকদারের দ্রুত জামিন নিশ্চিত করতেই থানার ওসির সঙ্গে বিপুল অঙ্কের (৫০ লক্ষ টাকা) আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই ‘দেনদরবারের’ ফলেই হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশপুলিশের এই ভূমিকার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় আশুলিয়া থানার সামনে এক তাৎক্ষণিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।‘জুলাই রেভ্যুলেশনারী এলায়েন্স, ঢাকা জেলা উত্তর’-এর আয়োজনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার, শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা আইয়ুব আলী সিকদারের বিরুদ্ধে আনীত সকল হত্যা মামলা দ্রুত আমলে নিয়ে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে তারা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত আশুলিয়া থানার ওসির দ্রুত অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।বিক্ষোভকারীরা জানান, পুলিশের একটি অংশের সঙ্গে অপরাধীদের আঁতাতের ফলে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং এতে স্থানীয় জনজীবন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।ওসির বক্তব্যএ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আইন মেনেই আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি চাঁদাবাজি ও অপহরণ মামলা আমলে নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ ও মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”সূত্র: জুলাই রেভ্যুলেশনারী এলায়েন্স

