সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

“এনসিপির দৃষ্টিতে জুলাই সনদ = ফাঁকা প্রতিশ্রুতি — জানুন কারণ”

Spread the love

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষণা করেছে যে, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পূর্বশর্ত হিসেবে তারা সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া টেক্সট, গণভোটের প্রশ্ন, ও সংবিধান পরিবর্তনের গঠনমূলক সক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়গুলোর আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা পেলে তারা স্বাক্ষর বিবেচনা করবে। আইন ও প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা ছাড়া সনদকে একটি শূন্য প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচনা করছেন তারা।—পটভূমিগণতান্ত্রিক সংস্কার চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে দীর্ঘ এক বছরের মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক দল এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আলোচনা করেছে। আলোচনার ফলস্বরূপ তৈরি হয়েছে “জুলাই জাতীয় সনদ” — যেখানে সংবিধানে সংস্কার, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রশাসন ও বিচারসংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ২৫টি দল সনদে স্বাক্ষর করেছে, তবে এনসিপি, চারটি বাম দল ও কিছু শীর্ষকেন্দ্র আরও অংশগ্রহণ ও স্বাক্ষর থেকে বিরত থেকেছে। —এনসিপির ধারণা ও শর্তনাহিদ ইসলাম নেতৃত্বাধীন এনসিপির বক্তব্যের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:✱ আইন ও আদেশের ভিত্তিএনসিপি মনে করে, সনদ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল নয়; এটি যদি কার্যকর হতে হয়, তাহলে এর আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা ও সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া পরিষ্কার না হলে সনদে সই করা “মূল্যহীন” হবে। ✱ গণভোট ও প্রশ্নাবলীসনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া এবং গণভোটের প্রশ্ন চূড়ান্ত করে নির্বাচনমূলক প্রক্রিয়ার আগে জনগণের সামনে ঘোষণা করতে হবে — এ দাবি এনসিপির। ✱ নোট অব ডিসেন্টের কার্যকারিতাগণভোটে সনদ পক্ষে অনুমোদন পেলে, নোট অব ডিসেন্ট (যেসব দল ভিন্নমত প্রকাশ করেছে) কোনো প্রভাব ফেলা পারবে না। অর্থাৎ গণভোট রায়ের ভিত্তিতে সংসদকে গাঠনিক ক্ষমতা প্রদান করে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। ✱ স্বচ্ছতা ও পূর্বজঘন্নতাস্বাক্ষরের আগে খসড়া ও কার্যপ্রণালীর রূপরেখা প্রকাশ ও আলোচনা করা হবে — এ ছাড়া সনদ কার্যকর করার দরকারবান দৃষ্টিভঙ্গি নানাবিধ পর্যায়ে স্পষ্ট হতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে, এনসিপি তাদের সঙ্গে সনদে স্বাক্ষর করবে না বলে উল্লেখ করেছে। —বিশ্লেষণ ও প্রভাবএনসিপির অবস্থান সনদকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা থেকে রূপান্তরমূলক কর্মসূচিতে পরিণত করার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করে।রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও, পদ্ধতির স্বচ্ছতা ও আইনগত গ্যারান্টি ছাড়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন শঙ্কিত।গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ার ওপরে এই শর্তাবলী পুরো প্রক্রিয়াকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেবে।যদি কমিশন ও অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনায় এগিয়ে আসা যায়, তাহলে এনসিপির শর্ত মেনে নেওয়া প্রক্রিয়াটিকে অধিক গ্রহণযোগ্যতা দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *