সর্বশেষ
এপ্রিল ১০, ২০২৬

জামায়াত নেতার জঘন্য প্রতারণা! সর্বস্বান্ত এক যুবক, আড়াই বছর ধরে শুধুই মিথ্যা আশ্বাস।

Spread the love

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ইকবাল সালাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভয়ংকর প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকার এক দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তান, হাফেজ মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদকে প্রবাসে পাঠানোর নাম করে তার কাছ থেকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই প্রভাবশালী জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও কোনো প্রতিকার না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত।মনরাজ এলাকার যুবক হাফেজ মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ পরিবারের অসচ্ছলতা দূর করতে নিজের পড়াশোনার গতি থামিয়ে প্রবাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বহু ভাবনা-চিন্তার পর, নিজেদের শেষ সম্বলটুকু – জায়গা-জমি বিক্রি করে অর্জিত ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা তিনি তুলে দেন এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও জামায়াত নেতা ইকবাল সালাম চৌধুরীর হাতে। জুবায়েরের একমাত্র আশা ছিল, তিনি প্রবাসে গিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন।কিন্তু বাস্তবতা ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত। টাকা গ্রহণের পর থেকেই শুরু হয় দীর্ঘসূত্রিতা। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি আড়াই বছরেরও বেশি সময় কেটে গেলেও জুবায়েরের প্রবাস যাত্রা হয়নি। এমনকি টাকা ফেরত বা প্রবাস গমনের বিষয়ে কোনো সঠিক জবাবও মেলেনি জামায়াত নেতা ইকবাল সালাম চৌধুরীর কাছ থেকে।ভুক্তভোগী পরিবার একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে বিচারপ্রার্থী হয়েছেন। স্থানীয় সালিশে ইকবাল সালাম চৌধুরীকে হয় টাকা ফেরত দিতে, নতুবা দ্রুত জুবায়েরকে বিদেশে পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হলেও তিনি তাদের কোনো কথায় কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ।এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত ইকবাল সালাম চৌধুরী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী সাহেবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং প্রায়শই তার সাথে চলাফেরা করেন। অভিযোগ রয়েছে, ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী সাহেব এই প্রতারণার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও ভুক্তভোগী পরিবার কোনো প্রকার প্রতিকার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা দেখতে পাচ্ছে না।এই ঘটনা জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি সংগঠনের অভ্যন্তরে এমন ধরনের গুরুতর অভিযোগের স্থান থাকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, দলীয় পদ ব্যবহার করে যদি কেউ এভাবে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করে, তবে দলের উচিত দ্রুত তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া।হাফেজ জুবায়ের আহমদ ও তার পরিবার এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা। তাদের কষ্টার্জিত টাকা এবং প্রবাসে গিয়ে সচ্ছল হওয়ার স্বপ্ন দুটোই এখন জামায়াত নেতার প্রতারণার শিকার। এই ঘটনায় মানবতা, বিবেক ও দায়িত্ববোধের চরম অবক্ষয় দেখছেন স্থানীয়রা। তারা চান, এই প্রতারক নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ তার মতো এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়। ভুক্তভোগী পরিবারটি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও তাদের পাওনা টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *