ডেক্স রিপোর্ট, newsbd24:
মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের ঘনঘটা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আতঙ্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই ইরানের ইসফাহান প্রদেশে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রদেশের খোমেনি শহর কাউন্টির দারচেহ শহরের একটি জনবহুল সবজি ও ফল বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে হেলিকপ্টারের পাইলট ও কো-পাইলটসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিল নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি দেশটির সেনাবাহিনীর এভিয়েশন ইউনিটের ছিল। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জনবহুল বাজারের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে কপ্টারে থাকা দুই সামরিক কর্মকর্তার পাশাপাশি বাজারের দুইজন বিক্রেতাও প্রাণ হারান।
উত্তেজনা ও সামরিক সতর্কতা
এই দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করতে ‘সীমিত’ আকারে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। বিশেষ করে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ এবং ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যার ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি।
পুরনো যন্ত্রাংশ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের মতে, ইরানের বিমান নিরাপত্তার রেকর্ড দীর্ঘকাল ধরেই দুর্বল। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দেশটির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা নতুন বিমান বা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে পারছে না। ফলে পুরনো যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার মেরামত করে চালানো হচ্ছে, যা নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ইরানের হামাদান প্রদেশে একটি এফ-৪ ফাইটার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক পাইলটের মৃত্যু হয়েছিল।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরমাণু শক্তি তাদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ যুদ্ধের বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখছেন। তেহরান সতর্ক করে দিয়েছে যে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে।
ইসফাহানের এই দুর্ঘটনাকে সাধারণ যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবে দেখা হলেও, যুদ্ধের আবহে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবারের পরমাণু আলোচনার ফলাফল কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব।

