আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর আকস্মিক মৃত্যুর পর বিশ্ব রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা ও অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় খামেনী নিহত হওয়ার পর ইসলামিক রিপাবলিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্ব কে গ্রহণ করবেন, তা নির্ধারণে রাষ্ট্রযন্ত্র দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন ট্রানজিশনাল লিডারশিপ টিমের নাম ঘোষণা করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরএনএ (IRNA) রবিবার সকালে খামেনীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে খামেনীর মৃত্যুর খবরটি জানান। জানা গেছে, তেহরানের ‘লিডারস রেসিডেন্স’ অর্থাৎ খামেনীর কার্যালয়ে অবস্থানকালেই এই ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়।
এখন বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন? যদিও চূড়ান্ত উত্তরাধিকারী নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি জটিল এবং সময়সাপেক্ষ, ইরান সরকার বর্তমান ক্রান্তিকাল সামাল দেওয়ার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামো ঘোষণা করেছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রানজিশনাল পিরিয়ড বা অন্তর্বর্তীকালীন এই সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে একটি বিশেষ পরিষদ। এই পরিষদে থাকবেন:
১. ইরানের প্রেসিডেন্ট
২. বিচার বিভাগের প্রধান
৩. গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ (ইসলামি আইনবিদ)
এই ত্রয়ী কমিটি পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কাজ তদারকি করবে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষমতা রাখে ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’। এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ সম্ভবত সেই নির্বাচনের প্রক্রিয়াটিও তদারকি করবে।
৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক:
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি এক আবেঘন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, খামেনী তার কর্মস্থলে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ‘শহীদ’ হয়েছেন। তারা এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, কর্মস্থলেই খামেনীর মৃত্যু প্রমাণ করে যে, শত্রুপক্ষের পক্ষ থেকে তার অসুস্থতা বা আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে যে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ চালানো হচ্ছিল, তা মিথ্যা ছিল। তারা বলে, খামেনী সবসময় ভয়হীনভাবে জনগণের মাঝে থেকে তার দায়িত্ব পালন করেছেন।
আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক প্রভাব:
৮৬ বছর বয়সী খামেনীর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই নেতার প্রস্থান, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্ষমতার লড়াই এবং আঞ্চলিক মিত্রদের (যেমন: হিজবুল্লাহ, হামাস) ওপর ইরানের প্রভাবের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, এই হামলায় সরাসরি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কে হবেন পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা—খামেনীর পুত্র মোজতবা খামেনী নাকি অন্য কোনো প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা—সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছে বিশ্ব।

