আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হংকংয়ের ওয়াং ফুক কোর্ট এস্টেটে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) হংকং পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। উদ্ধারকর্মীরা পুড়ে যাওয়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে আরও মরদেহ উদ্ধার করেছেন। তবে এই মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই বেইজিং কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে, যেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার ‘চীনবিরোধী’ বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ না করা হয়।
ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ডিজাস্টার ভিক্টিম আইডেন্টিফিকেশন ইউনিটের কর্মকর্তারা আরও তিনটি টাওয়ারে প্রবেশ করে মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, পোড়া ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহতম অগ্নিকাণ্ড
এই অগ্নিকাণ্ডকে ১৯৮০ সালের পর বিশ্বের যেকোনো আবাসিক ভবনে ঘটা সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। হংকংয়ের ইতিহাসে এটি গত ৭৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। এর আগে ১৯৪৮ সালে একটি বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
বেইজিংয়ের কঠোর বার্তা
অগ্নিনরাপত্তায় অবহেলা, নির্মাণ ত্রুটি এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার অভিযোগ এনে হংকংয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনলাইনের পাশাপাশি রাজপথেও স্বচ্ছ বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি উঠছে। রোববারও হাজার হাজার মানুষ দুর্ঘটনাস্থলে ফুল ও মোমবাতি নিয়ে শোক প্রকাশ করেন।
তবে এই ক্ষোভের মধ্যেই শনিবার (২৯ নভেম্বর) চীনের জাতীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এক কড়া বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই বিপর্যয়কে পুঁজি করে কেউ যেন হংকংয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা না করে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা চীনবিরোধী বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোরভাবে সতর্ক করছি, যারা এই দুর্যোগকে ব্যবহার করে হংকংয়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়।”
অ্যাক্টিভিস্ট আটকের অভিযোগ
হংকংয়ের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে অনলাইনে পিটিশন চালু করায় ২৪ বছর বয়সী অ্যাক্টিভিস্ট মাইলস কোয়ানকে আটক করা হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই পিটিশনে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন। আটকের আগে কোয়ান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছিলেন, “আমাদের স্বীকার করতেই হবে, আজকের হংকং ভেতর এবং বাইরে—সব দিক থেকেই ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়েছে।”
পুলিশ সরাসরি তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও জানিয়েছে, “বাস্তব পরিস্থিতি এবং আইন অনুযায়ী” ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শহরজুড়ে ৩০টি বেসরকারি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি আন্তঃবিভাগীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
সূত্র: উইওন

