বরিশালের হিজলা উপজেলার ৫নং হিজলা গৌরব্দী ইউনিয়নে গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর ২০২৫) মুজাহিদ কমিটির উদ্যোগে এক বিশাল, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামি শিক্ষা, নৈতিকতা ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই সমাবেশে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ, নেতা-কর্মী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হিজলা উপজেলা শাখা ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এই মাহফিলের প্রভাব পুরো হিজলা জুড়ে এক অনন্য ইসলামি সমাবেশের ছাপ রেখে গেছে।পীর সাহেব চরমোনাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বার্তামাহফিলের প্রধান অতিথি ছিলেন আমিরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম পির সাহেব চরমোনাই। তিনি তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে বলেন, “ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রকৃত ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।” তিনি ধর্ম ও নৈতিকতার ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এ ধরনের মাহফিলগুলো মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও নৈতিক মূল্যবোধ দৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”নেতৃবৃন্দের ঐক্যের আহ্বানবরিশাল-৪ আসনের হাতপাখা প্রতীকের এমপি পদপ্রার্থী আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ এছহাক মোহাম্মদ খায়ের সাহেব মাহফিলে বলেন, “ইসলাম শুধুমাত্র নামের ধর্ম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”বিশেষ অতিথি আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আব্দুর রহিম (বড় হুজুর) তাঁর বক্তব্যে জোর দেন যে “মানবতার মুক্তি ইসলামের মধ্যেই নিহিত। ধর্মীয় অনুশাসনের আলোয় সমাজকে আলোকিত করতে হবে। শিক্ষা, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতা সমাজকে শক্তিশালী ও উন্নত করে।”মুজাহিদ কমিটির ভূমিকা ও সমাপ্তিমাহফিলের সভাপতিত্ব করেন হযরত মাওলানা বেলাল হুসাইন। তিনি বলেন, “মুজাহিদ কমিটি বরাবরই ইসলাম, ঐক্য ও নৈতিকতার প্রচারে কাজ করছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের ভাইদের অংশগ্রহণ এই মাহফিলকে আরও প্রাণবন্ত ও সফল করেছে। ইনশাআল্লাহ, এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”মাহফিলে থানার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রখ্যাত আলেম-ওলামা, সমাজসেবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় পির সাহেব চরমোনাই হুজুরের পরিচালনায় এক আবেগঘন মোনাজাতের মাধ্যমে।এই মাহফিলটি হিজলার ধর্মপ্রাণ সমাজে ইসলামী শিক্ষা, নৈতিকতা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক অনুষ্ঠান হিসেবে ইতিহাসে সংরক্ষিত হলো।

