ডেক্স রিপোর্ট
newsbd24:
গাজায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার মাঝেই কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সংগঠনটি জানিয়েছে, গাজা নিয়ে যেকোনো রাজনৈতিক আলোচনা বা সমঝোতার আগে গাজাবাসীর ওপর চলা আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর থেকে দীর্ঘদিনের অবরোধ প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে তারা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস স্পষ্ট করে বলেছে, ফিলিস্তিনি জনগণের জাতীয় অধিকার ও স্বাধীনতার গ্যারান্টি ছাড়া গাজা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হবে না। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আগ্রাসন বন্ধ এবং অবরোধ প্রত্যাহারই যেকোনো রাজনৈতিক পথের প্রথম ধাপ হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’ ওয়াশিংটনে তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করার পরপরই হামাসের এই প্রতিক্রিয়া এলো। ট্রাম্পের এই শান্তি বোর্ডে গাজা পুনর্গঠনে বেশ কয়েকটি দেশ অর্থ ও জনবল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈঠকে বলেন, আমরা গাজাকে সাহায্য করব এবং একে একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করব। শতাব্দী প্রাচীন যুদ্ধ ও ভোগান্তি নিরসন করে এই অঞ্চলে সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।
তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার মাঝেও গাজায় পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলাকালীন গত চার মাসেই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে অন্তত ৬০১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণের দাবি তুলেছেন। নেতানিয়াহুর মতে, গাজা পুনর্গঠন শুরুর আগে হামাসকে অস্ত্র ছাড়তে হবে এবং অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ উগ্রবাদমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।

