প্রতিবেদক :আজিজুল ইসলাম (সহ-সম্পাদক)
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ঝুলে থাকা গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও লভ্যাংশ আদায়ের বিষয়টি অবশেষে আলোর মুখ দেখছে। করপোরেট প্রভাব, নানামুখী লবিং এবং আইনি জটিলতার অজুহাতে এতদিন যা আটকে ছিল, তা সমাধানে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন দৃঢ়তা দেখিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. এম. সাখাওয়াত হোসাইন এবং শ্রম সচিব ড. সানওয়ার জাহান ভূঁইয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণফোনের সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে প্রায় ৩,৮০০ জন কর্মী গত ১৫ বছর ধরে তাদের শ্রম আইনের অধিকার অনুযায়ী ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ও অন্যান্য বকেয়া পাওনার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে করপোরেট ক্ষমতার অপব্যবহার এবং লবিংয়ের মাধ্যমে এই দাবি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান শ্রম উপদেষ্টা এবং শ্রম সচিবের অনড় অবস্থানের কারণে সেই দীর্ঘসূত্রিতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, ড. এম. সাখাওয়াত হোসাইন ও ড. সানওয়ার জাহান ভূঁইয়া ব্যক্তিগত স্বার্থ, ভয় বা প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে, রাষ্ট্র যদি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ থাকে, তবে যেকোনো করপোরেট স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করা সম্ভব।
এই দুই কর্মকর্তার প্রচেষ্টায় ৫ শতাংশ আইনি জরিমানা ও বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি এখন সমাধানের চূড়ান্ত পর্যায়ে। এটি কেবল ৩,৮০০ পরিবারের অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের বিষয় নয়, বরং করপোরেট কাঠামোর মধ্যে শ্রমিকের মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে হাজারো পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা মনে করেন, সত্যিকারের দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব যে লোভ ও ভয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে পারে, ড. সাখাওয়াত ও ড. সানওয়ার তা প্রমাণ করেছেন। খুব শীঘ্রই এই জটিলতার পূর্ণাঙ্গ সমাধান এবং পাওনা পরিশোধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের শ্রমখাতে সুশাসন ফেরাতে এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

