ফুটবল বিশ্বে উসমান দেম্বেলের সম্ভাবনা নিয়ে কখনোই কোনো প্রশ্ন ছিল না। তবে সমস্যার জায়গা ছিল তার শৃঙ্খলা। সেই অভাবই তাকে একের পর এক ইনজুরিতে ভুগিয়েছে। বার্সেলোনায় যোগ দেওয়াটা হয়তো তাড়াতাড়ি হয়ে গিয়েছিল, আবার নেইমারের রেকর্ডব্রেকিং ট্রান্সফারের কারণে অতিরিক্ত চাপও তার ঘাড়ে এসে পড়ে। ফলে কাতালান ক্লাবে তার সময়টা বেশিরভাগই হতাশার মধ্য দিয়েই কেটেছে।তবে আশার আলো দেখা দিয়েছিল জাভির কোচিংয়ে, যখন তিনি ফিট থাকা শুরু করেন। বার্সা তাকে শেষ পর্যন্ত অগ্রাধিকার দিয়েছিল, কিন্তু দেম্বেলে বুঝতে পেরেছিলেন তার ভবিষ্যৎ হয়তো অন্য কোথাও লেখা আছে। সেই সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, সেটাই প্রমাণিত হলো পিএসজিতে।২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও কোচ লুইস এনরিকে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাকে শাস্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি বছর সেই একই এনরিকে তাকে দিলেন স্বাধীনতা, নিজের খেলা মেলে ধরার পূর্ণ সুযোগ। গতি, দক্ষতা আর নতুন করে শুটিংয়ে মনোযোগ—সব মিলে দেম্বেলে হয়ে উঠলেন ইউরোপের অন্যতম ভয়ঙ্কর গোলদাতা।গত মৌসুমে দেম্বেলে করেছেন ৩৩ গোল, সঙ্গে ১৩টি অ্যাসিস্ট। শুধু তাই নয়, পিএসজিকে জিতিয়েছেন ট্রেবল, আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ছিলেন সেভিয়রের ভূমিকায়। বিশেষ করে লিভারপুলের বিপক্ষে তার গোলই প্যারিসিয়ানদের এগিয়ে দেয়।শেষ পর্যন্ত পারফরম্যান্স, প্রভাব এবং অর্জনের সব মাপকাঠিতেই নিজেকে প্রমাণ করে দেম্বেলের হাতেই উঠেছে ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত পুরস্কার—ব্যালন ডি’অর।কিন্তু সবচেয়ে অনুপ্রেরণার জায়গা হলো দেম্বেলের এই রিডেম্পশনের কাহিনি। একসময় যে প্রতিভা শৃঙ্খলার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছিল, সেই দেম্বেলেই পরিশ্রম আর মেধার সমন্বয়ে হয়ে উঠলেন বিশ্বসেরা। তার এই যাত্রাই প্রমাণ করে—শৃঙ্খলা ও নিবেদন মিলে প্রতিভাকেই গড়ে তোলে কিংবদন্তিতে।

