প্রতিবেদক :তালহা মাহতাব সুমের,নির্বাহী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আসন্ন নির্বাচন-২০২৫ এর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ‘রুক্ষ উত্তেজনা’ ও বিক্ষোভের দৃশ্য দেখা গেছে। ২৬ থেকে ৩০টি নির্ধারিত আসনে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার বিকেলে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন, তখনই বিভিন্ন অঞ্চলে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা-কর্মীদের সমর্থকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এই অসন্তোষ দ্রুতই সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালানো এবং ব্যারিকেডের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জনজীবনে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।সড়কে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিমনোনয়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি উত্তাপ দেখা গেছে সাতক্ষীরা-৩ ও-২, মাগুরা-২, কুষ্টিয়া-৩, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) এবং মাদারীপুর-১ আসনে। এই আসনগুলোতে মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা আটকে দেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। * মাগুরা-২: এই আসনে ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী মনোনয়ন পাওয়ায় তাঁর প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। তাদের দাবি, অন্য একজন নির্বাচিত প্রার্থীর জন্যই সহ-সমর্থকদের মধ্যে এই উত্তেজনা ও সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। * সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় কাজী আলাউদ্দীনের নাম ঘোষণার পর কালীগঞ্জ ও নলতা এলাকায় ডাঃ শহিদুল আলম-এর সমর্থকরা বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা দাবি তুলেছেন যে তাদের নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। * কুষ্টিয়া-৩: সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন মনোনয়ন না পাওয়ায় তাঁর সমর্থকরা অবিলম্বে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ শুরু করেন। * চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড): এখানে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যারিকেড ও টায়ারে আগুন দেওয়া হয়। সমর্থকরা জোর দাবি করেন, তাদের পছন্দের নেতাকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হলো না।রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গেদলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রার্থী ঘোষণার পর যে অভ্যন্তরীণ ‘সহমত নেই’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা এখন আর কেবল রাজনৈতিক কার্যালয়ে সীমাবদ্ধ নেই। মনোনয়ন না পাওয়ার ‘যন্ত্রণা’ এখন সরাসরি সড়কে ‘প্রতিবাদে’ রূপান্তরিত হচ্ছে, যা যানবাহন চলাচলকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

