সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

রাঙামাটির দুর্গম হারাঙ্গীপাড়ায় সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা; ইউপিডিএফের বাধাদানে ক্ষোভ

সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা
Spread the love

কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:

রাঙামাটি: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গত সোমবার (১০ নভেম্বর ২০২৫) রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের দুর্গম হারাঙ্গীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় জনসাধারণের জন্য এক দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই মানবিক উদ্যোগে এলাকার স্বাস্থ্যসেবা-বঞ্চিত সীমিত সংখ্যক নারী, শিশু ও প্রবীণসহ স্থানীয় জনগণ চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।

কাউখালী উপজেলার এই তিন নং ইউনিয়নের ঝিরি-ঝর্ণা, ছড়া এবং উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ পেরিয়ে এখানকার সাধারণ জনগণের পক্ষে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করা অত্যন্ত দুরূহ। এই কঠিন বাস্তবতাকে সামনে রেখে রাঙামাটি সদর জোনের সার্বিক সহযোগিতায় মেজর মিনহাজুর আবেদিনের নেতৃত্বে এই চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালিত হয়।

ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবিদ দাশ, ডিজিও-গাইনি বিশেষজ্ঞ মেজর জান্নাতুন নাঈম এবং মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন নাহিদা আক্তার। দিনব্যাপী এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়। চিকিৎসা গ্রহণকারী স্থানীয় জনগণ সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগের প্রতি গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

তবে স্থানীয় সূত্রমতে, এই মানবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চুক্তিবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল)-এর বিরুদ্ধে। মেডিকেল ক্যাম্প শুরুর আগে থেকেই সংগঠনের সদস্যরা এলাকায় ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করে। ইউপিডিএফের কর্মীরা বিভিন্ন পাহাড়ি পাড়ায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে হুমকি দেন যে, সেনাবাহিনীর চিকিৎসা ক্যাম্পে গেলে তাদের জরিমানা ও শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। এই আতঙ্কের কারণে অনেক অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে সাহস পাননি।

এরপরও সেনাবাহিনী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ধৈর্য সহকারে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

রাঙামাটি রিজিয়নের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, সেনাবাহিনী সর্বদা পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের কল্যাণে নিষ্ঠাবান। শান্তি, নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তার প্রতি সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার অটুট। সশস্ত্র গোষ্ঠীর যেকোনো ভয়ভীতি বা বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের সেবায় কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমুখী মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *