মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে এর মূল কারণ জ্বালানি সংকট। বিদ্যুৎনির্ভর পাম্প ও শোধনাগার চালাতে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিলে সরাসরি ব্যাহত হতে পারে দৈনন্দিন পানি সরবরাহ কার্যক্রম। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে যখন পানির চাহিদা বেড়ে যায়, তখন সম্ভাব্য বাড়তি লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮৯ কোটি লিটার, যেখানে চাহিদা প্রায় ১৯৩ কোটি লিটার। কাগজে-কলমে পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকলেও বাস্তব চ্যালেঞ্জ হলো এই উৎপাদন টিকিয়ে রাখা। কারণ ১ হাজারের বেশি পাম্প নিরবচ্ছিন্নভাবে চালাতে প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, যা জ্বালানি সংকটের কারণে হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিশেষ করে গভীর নলকূপনির্ভর পানির উৎসে বিদ্যুৎ বিঘ্ন ঘটলেই সরবরাহে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে ওয়াসা। পাম্প চালু রাখতে জ্বালানির নিশ্চয়তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বড় পানি শোধনাগারগুলো বিশেষ করে সায়েদাবাদ প্ল্যান্টে আগের তুলনায় বেশি সময়ের জন্য জ্বালানি মজুদের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে, যাতে পানি সরবরাহকে জরুরি সেবা হিসেবে সচল রাখা যায়।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরো পরিস্থিতি নির্ভর করছে জ্বালানি সরবরাহ ও লোডশেডিংয়ের মাত্রার ওপর। সংকট তীব্র হলে নির্দিষ্ট এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, এমনকি বিকল্প হিসেবে পানির গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
তাই নাগরিকদেরও এখন থেকেই সচেতন হয়ে পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ১১টি জোনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়, যেখানে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে ৬৫–৮২ শতাংশ পানি উত্তোলন করা হয়, আর বাকি অংশ নদীর পানি শোধন করে সরবরাহ করা হয়। পুরো ব্যবস্থাটিই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিদ্যুৎ সংকট সরাসরি পানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা থাকলেও প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। তবে নাগরিক সচেতনতা এবং সাশ্রয়ী পানি ব্যবহারই এই চাপ সামাল দেওয়ার অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

