সর্বশেষ
এপ্রিল ২, ২০২৬

লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি: নেপথ্যে কুখ্যাত কামাল বাহিনী, গ্রেফতার ২

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুরসহ আশেপাশের এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে চুরির উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিলিং ফ্যান, গ্যাস সিলিন্ডার ও মূল্যবান আসবাবপত্র চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।


​উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং চুরির রহস্য উদঘাটনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সালাউদ্দিনের উদ্যোগে সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় মুরুব্বি, জনপ্রতিনিধি এবং কমলগঞ্জ থানার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার উপস্থিত ছিলেন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক মোঃ সালাউদ্দিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।


​চাঞ্চল্যকর তথ্য ও গ্রেফতার:
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে এই চুরির মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা এই চুরির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এই চক্রের মূল নায়ক কামালের নাম। লক্ষ্মীপুর গ্রামের রজাক মিয়ার পুত্র এই কামাল একজন দুর্ধর্ষ চোর ও ছিনতাইকারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।


​ধৃতদের তথ্যমতে, কামাল এলাকায় একটি বড় চোর সিন্ডিকেট পরিচালনা করে। সে কিশোর বয়স থেকেই মদ ও জুয়ায় আসক্ত। মূলত নেশা এবং জুয়ার টাকার জোগান দিতেই সে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কামালকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে ওই অঞ্চলের বিগত দিনের সকল চুরির রহস্য উন্মোচিত হবে।


​সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক সভা:
গত ১ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় এক বিশাল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান শিক্ষক মোঃ সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব আব্দুল হক চৌধুরী শায়েস্তা, বিশিষ্ট সালিশ বিচারক মাওলানা আব্দুল মালেক, আব্দুল কাদির, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফজলে রাব্বি, সহকারী শিক্ষিকা জাহানারা বেগম এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডাঃ অপু আবুল হাসান।


​এছাড়াও নিউজ বিডি ২৪ লাইভ এর প্রবাস প্রতিনিধি এমদাদুর রহমান মাহবুব, ব্যবসায়ী মোঃ শফি, হরি দেবনাথ, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক অশোক চক্রবর্তী এবং জেলা জাসাস নেতা সৈয়দ জুম্মান আহমেদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সন্দেহভাজন অপরাধী এবং তাদের অভিভাবকদের তলব করা হয়। উপস্থিত মুরুব্বিরা তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করেন এবং এ ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
​প্রশাসনের বক্তব্য:


মূল হোতা কামাল এখনো পলাতক থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই কামালকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশি টহল জোরদার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *