সর্বশেষ
মার্চ ২৯, ২০২৬

রাজনগরে এই কালভার্ট পার হতে কেন নিঃশ্বাস বন্ধ করতে হয় ?

Spread the love

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

রাজনগর মৌলভীবাজার সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রী ও পথচারীদের জন্য গোবিন্দপাটি বাজার সংলগ্ন কালভার্ট এলাকাটি এখন এক আতঙ্কের নাম। ভৌতিক কোনো আতঙ্ক নয় বরং বর্জ্যের উৎকট ও তীব্র দুর্গন্ধের কারণে এই স্থানটি পার হওয়ার সময় দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় যাতায়াতকারীদের। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অব্যবস্থাপনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি যাত্রী সাধারণের নাভিশ্বাস উঠেছে।​সরেজমিনে এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় মৌলভীবাজার জেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান এই সড়কের গোবিন্দপাটি বাজার পার হলেই নাকে এসে লাগে অসহ্য পচা গন্ধ।

এই গন্ধ এতটাই তীব্র যে কালভার্টটি পার হওয়ার কয়েক গজ আগে থেকেই মানুষ নাক মুখ চেপে ধরতে বাধ্য হন। অনেকে দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নিঃশ্বাস বন্ধ করে দ্রুত স্থানটি ত্যাগ করার চেষ্টা করেন।​অনুসন্ধানে দেখা গেছে কিছু কাণ্ডজ্ঞানহীন ও অসচেতন ব্যক্তি গরু জবাই করার পর চামড়া রক্ত হাড় ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট বর্জ্য এই কালভার্টের নিচে বা আশেপাশে যত্রতত্র ফেলে রাখছেন। খোলা জায়গায় পড়ে থাকা এই বর্জ্য রোদে শুকিয়ে এবং বৃষ্টিতে ভিজে পচতে শুরু করলে চারদিকে বিষাক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ এই দুর্গন্ধ কখনো কয়েক সপ্তাহ আবার কখনো কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।​প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষ চলাচল করে। বাসে বা সিএনজিতে থাকা যাত্রীরাও এই তীব্র গন্ধ থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান জনবহুল এই এলাকায় এভাবে বর্জ্য ফেলা কেবল পরিবেশ দূষণ নয় বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। সামান্য কিছু মানুষের অবিবেচক কাজের জন্য হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন কষ্ট পাচ্ছেন।​ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সাধারণ পথচারীদের দাবি অবিলম্বে এই স্থানটি পরিষ্কার করে বর্জ্য অপসারণ করতে হবে।

একইসাথে যারা জনস্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে এভাবে বর্জ্য ফেলছে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন দুর্গন্ধকবলিত সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *